পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর বাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহাদাৎ হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে মো. আক্তার হোসেন নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দেবোত্তর বাজারের একটি বহুতল ভবনের ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদাৎ উপজেলার কদমডেঙা গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবোত্তর বাজারের পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘আকুল স্টোর’-এর কর্মচারী ছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দেবোত্তর বাজারের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ছাদের ওপর গত রাতের বৃষ্টির পানি জমে ছিল। সেই পানি নিচে অবস্থিত আকুল স্টোরের ওপর পড়ছিল। দোকানকে পানির হাত থেকে রক্ষা করতে সকালে শাহাদাৎ ওই ছাদে ওঠেন। পানি নিষ্কাশনের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে যায়। এ সময় তিনি ছাদের কোলঘেঁষে যাওয়া প্রধান লাইনের বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শাহাদাতকে তারের সঙ্গে আটকে থাকতে দেখে নিচে থাকা ‘সিট কাপড়ালয়’-এর স্বত্বাধিকারী আক্তার হোসেন তাকে উদ্ধারের জন্য ছুটে যান। এ সময় তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন।
এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা করেন। পরে খবর পেয়ে আটঘরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছাদ থেকে শাহাদাতের মরদেহ উদ্ধার করে। আহত ব্যবসায়ী আক্তারকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা শাহাদাতের মরদেহ তার নিজ গ্রাম কদমডেঙায় নিয়ে গেলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একজন পরিশ্রমী যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে দেবোত্তর বাজারের ব্যবসায়ী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার এলাকার বিভিন্ন ভবনের গাঘেঁষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক তার ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাজার এলাকার সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি