শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৪

ইমামের মর্যাদা ও কর্তব্য

নূর মুহাম্মদ রাহমানী

ইসলামের দৃষ্টিতে ইমামতি একটি মহান দায়িত্ব। সুন্দর ও সম্মানজনক পদ। আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে ইমামতি করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম এ মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের পরবর্তী মুসলমানদের সর্বোত্তম পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ সমাজের ইমামতি করেছেন। নবী করিম (সা.) ইমামের মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এ মহান দায়িত্ব পালনে ইমামদের সতর্কও করেছেন। বিভিন্ন হাদিসে তাঁদের অনেক ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। ইমামের জন্য দোয়া করেছেন নবীজি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মসজিদের ইমাম হলো মুসল্লিদের জন্য জিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন আমানতদার স্বরূপ। হে আল্লাহ! তুমি ইমামদের সৎপথ প্রদর্শন কর এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা কর।’ তিরমিজি। সঠিক সময়ে নামাজ পড়ানোর রয়েছে অনেক সওয়াব। উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, ‘আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে লোকদের নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করছে- এ জন্য সে (ইমাম) নিজে ও মুকতাদিরাও পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। অন্যদিকে যদি কোনো সময় ইমাম সঠিক সময়ে নামাজ আদায় না করে তবে এ জন্য সে দায়ী হবে কিন্তু মুকতাদিরা পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে।’ আবু দাউদ। ইমাম মিশকের স্তূপের ওপর থাকবে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মিশকের কস্তুরীর স্তূপের ওপর থাকবে। তার মধ্যে এক ব্যক্তি হলো যে কোনো কওমের ইমামতি করে আর তারা তার প্রতি সন্তুষ্ট।’ তিরমিজি।

ইমামের মর্যাদা যেমন তেমনি তার দায়িত্বও রয়েছে। ইমামতি সাধারণ কোনো পেশা নয়। এর রয়েছে অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য। ইমাম দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো কওমের ইমাম নিযুক্ত হয় সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং জেনে রাখে যে সে তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। যদি সে তার দায়িত্ব সুচারুরূপে আনজাম দেয় তবে তার পশ্চাৎবর্তী মুসল্লির সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করবে। কিন্তু তাদের সওয়াব সামান্যও কম করা হবে না। তবে নামাজে যদি কোনো ত্রুটি হয় তবে তার দায়িত্ব তারই।’ আল মুজামুল আওসাত। ইমামের মূল দায়িত্ব নামাজ পড়ানো। এ জন্য নামাজের যাবতীয় দিক খেয়াল রাখা একজন ইমামের জন্য অবশ্য-কর্তব্য। তার মধ্যে একটি হলো জামাতের নামাজ সংক্ষিপ্ত করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ লোকদের ইমামতি করলে সে যেন (নামাজ) সংক্ষেপ করে। কেননা তাদের মধ্যে ছোট বালক, দুর্বল ও অসুস্থ লোক থাকতে পারে। যখন সে একাকী নামাজ আদায় করে তখন নিজ ইচ্ছামতো (দীর্ঘ করে) আদায় করতে পারে।’ বুখারি। প্রাকৃতিক প্রয়োজনের বেগ নিয়ে নামাজে না দাঁড়ানো। হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘প্রাকৃতিক প্রয়োজনের বেগ নিয়েও কেউ যেন নামাজে না দাঁড়ায়।’ তিরমিজি। কাতার সোজা হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা। কাতার ঠিক করা ওয়াজিব। এটি নামাজ পরিপূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি ইমামের খেয়াল করতে হবে। ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি কাতার ঠিক করার জন্য একজন লোক নিযুক্ত করতেন। যে পর্যন্ত না তাকে জানানো না হতো যে কাতার সোজা হয়েছে সে পর্যন্ত তিনি তাকবির (তাহরিমা) বলতেন না। ওসমান ও আলী (রা.) এদিকে তীক্ষè নজর রাখতেন এবং তারা বলতেন, তোমরা সোজা হও। আলী (রা.) তো নাম ধরেই বলতেন, অমুক একটু আগাও, অমুক একটু পেছাও। তিরমিজি। মুসল্লিদের খোঁজখবর নেওয়া। মুসল্লিদের খোঁজখবর নেওয়া একজন আদর্শ ইমামের কর্তব্য। শুধু নামাজ পড়ালেই হবে না; বরং মুসল্লিদের নামাজ শুদ্ধ হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। যারা নামাজ পড়ে না তাদের বুঝিয়ে মসজিদে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ।


আপনার মন্তব্য