চট্টগ্রামের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ মোট ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে বিভিন্ন অনিয়ম ও শর্ত পূরণ না হওয়ায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-৪ আসনে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুর রশীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা নয় জন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র সঠিক না হওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক প্রমাণিত না হওয়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম ফজলুল হক, শাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ মোট ছয় জন প্রার্থী বৈধ রয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া পাঁচ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে এই আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী উভয়ের মনোনয়নই বৈধ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দল ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর প্রার্থিতা নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকা ও আয়কর সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকার কারণে এবি পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় গণ অধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দীন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরন বড়ুয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ছয় জন।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে ঋণখেলাপি হওয়ায় এলডিপির এম. এয়াকুব আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না হওয়ায় দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ সাদাত আহমেদ, মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা সাত জন।
এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রাম-১, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৩ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে আরও ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি জানান, ৪ জানুয়ারির পর চার দিনের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করার সুযোগ পাবেন।
বিডি প্রতিদিন/আশিক