ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোববার কিশোরগঞ্জের তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনে দাখিল করা ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এই আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করা এবং হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। একই কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ হাদীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকায় তথ্যের গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম খান ও রুহুল হোসাইনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য অর্থের উৎসের বিবরণী এবং সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ঋণ খেলাপি হওয়া এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকায় তথ্যের গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া)
এই আসনে মোট নয়জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করা ও হলফনামায় তথ্য গোপন করায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকায় তথ্যের গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দীন আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সম্পদ ও দায় এবং আয়-ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবুল বাসার রেজওয়ানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। হলফনামা সঠিক ফরম্যাটে দাখিল না করা এবং মনোনয়নপত্রের দ্বিতীয় খণ্ডে ব্যক্তিগত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল)
এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
ঋণ খেলাপি হওয়া এবং দলীয় মনোনয়নপত্রে যথাযথ স্বাক্ষর না থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মুজিবুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপি হওয়া ও এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকায় তথ্যের গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। একই কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল