ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। এই প্রার্থীর গত সাত বছরে নগদ অর্থ বেড়েছে ২৭ গুণের বেশি। তবে ব্যাংকঋণ রয়েছে প্রায় ২২ গুণ। বার্ষিক আয় কমেছে পৌনে চার গুণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
একরামুজ্জামান নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন। ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয় পান।
তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৪ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটিতে স্থান পান। তবে তার দাবি, কমিটি ঘোষণার পরই তিনি পদত্যাগপত্র আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জমা দেন।
একরামুজ্জামান ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে ঋণ নিয়েছেন প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন আদালতে একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। এসব মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন।
বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এরমধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা আয় আসে বাড়ি ভাড়া থেকে। ব্যাবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন ৬৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৭৪ টাকা। তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার জাহানের আয় ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বছরে একরামুজ্জামানের আয় ছিল প্রায় ৫৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তার আয় ছিল ১৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
সাত বছরে তার অস্থাবর সম্পদ ৫৬ কোটি ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪২১ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহতে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার টাকার ২ হাজার ১৫৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মারসায় ১ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ১ হাজার ৪২০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও বুর্জ খলিফায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকার ৯৮৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য উল্লেখ করেছেন।
নগদ অর্থ ৭ বছরে ২৭ দশমিক ১৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ২১ কোটি ৬৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় এই পরিমাণ ছিল ৭৯ লাখ টাকা। গত নির্বাচনের সময় ছিল ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ আছে ২ কোটি ৭৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
গত নির্বাচনের সময় একরামুজ্জামানের অস্থাবর সম্পদ ছিল প্রায় ৪১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে প্রায় ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকার। ২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ৩৬৫ কোটি ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার ২৫২ টাকার ও ১০ লাখ ৬২ হাজার ইউএস ডলার এবং স্ত্রীর নামে ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার।
একরামুজ্জামানের স্থাবর সম্পদ আছে মোট ৮২ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার টাকার। তবে নিজ নামে ২২৯ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬০২ টাকা, স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং দুই সন্তানের নামে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ টাকার দায় থাকার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এই সংখ্যা গত নির্বাচনে নিজ নামে ছিল প্রায় ২৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ২০১৮ সালে ছিল প্রায় ২১৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।
বর্তমানে নির্ভরশীল ব্যক্তিসহ ১২টি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩৫টি ব্যাংক, সাতটি প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। একরামুজ্জামান নির্বাচনে নিজের ব্যাবসা থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমই