ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে গণঅধিকার পরিষদ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন। তবে তিনি সোমবার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মির্জাপুর আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং এর মধ্যে ৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তোফাজ্জল হোসেন। তিনি মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেক মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, গত ২৪ জুলাই রাজধানীর পুরানা পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন টাঙ্গাইল জেলার তিনটি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ওই তালিকায় টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে শাকিল উজ্জামান, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে তোফাজ্জল হোসেন এবং টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে ইঞ্জিনিয়ার কবীর হোসেনের নাম ছিল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক সংগঠন গণ অধিকার পরিষদ বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণ অধিকার পরিষদ বা ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার গ্রহণযোগ্যতা নেই। তিনি বলেন, জনগণের জন্য রাজনীতি করি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ১৪-১৫ বার হামলার শিকার হয়েছি। জনগণের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান বলেন, তোফাজ্জল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে কিছু জানাননি। তাই তিনি এখনো দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। তবে একসঙ্গে দুই দলে থাকার সুযোগ নেই। তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে বিষয়টি স্পষ্ট।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল