সুনামগঞ্জ-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন কোটিপতি। পেশায় ব্যবসায়ী এসব প্রার্থীর ব্যবসা, বাড়িভাড়া এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
এই দুইজন হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুল হক এবং ইসলামি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তবে রফিকুল ইসলামের তুলনায় তার চিকিৎসক স্ত্রীর আয় ও সম্পদ কয়েকগুণ বেশি।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, এই আসনে অপর দুইজন প্রার্থী হলেন বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল এবং জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান। এই দুই প্রার্থীর উল্লেখযোগ্য আয় নেই।
হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী আনিসুল হকের বার্ষিক আয় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। শিক্ষকতা পেশায় তার স্ত্রী রুখসানা আক্তার বছরে আয় করেন ৭ লাখ টাকা।
আনিসুল হকের নিজের নগদ অর্থ রয়েছে ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ১১ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্রে স্ত্রীর বিনিয়োগ রয়েছে ২৩ লাখ টাকা। আনিসুল নিজে ১১ ভরি এবং তার স্ত্রী ২০ ভরি স্বর্ণের মালিক। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ১ একর ৪০ শতক জমি রয়েছে তার। ব্যবসায় বিনিয়োগ ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, বিপরীতে ব্যাংক ঋণ রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার সম্পদের বর্তমান মূল্য ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। স্ত্রীর সম্পদের মূল্য ৭৬ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে আনিসুল হকের নামে রয়েছে ৫ একর ২৭ শতক জমি, পাকা ও সেমিপাকা ভবনসহ ৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সম্পদ। তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১২ লাখ টাকা। বিগত অর্থবছরে আনিসুল হক আয়কর দিয়েছেন ৫২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি রাজনৈতিক মামলা হলেও সবকটিতেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে ইসলামি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমও কোটিপতি। রফিকুল ইসলাম পূর্বে চিকিৎসক হলেও বর্তমানে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কৃষিখাত, বাড়িভাড়া ও ব্যবসা থেকে রফিকুল ইসলামের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। একই খাত ও চিকিৎসাসেবা থেকে তার স্ত্রী বছরে প্রায় ২৮ লাখ টাকা আয় করেন। রফিকুল ইসলামের নিজের নগদ অর্থ রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ৮১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রফিকুলের জমা রয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এই দম্পতির নামে মোট ৫ লাখ টাকা মূল্যের কোম্পানির শেয়ার রয়েছে।
রফিকুল ইসলামের নামে স্থায়ী আমানত না থাকলেও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত। এছাড়া তাদের নামে ৪০ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরযান রয়েছে। সব মিলিয়ে রফিকুল ইসলামের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এছাড়া কৃষি ও অকৃষি জমি এবং বাড়ি মিলিয়ে রফিকুল ইসলামের আরও কয়েক কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার চিকিৎসক স্ত্রীর রাজধানী ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকা মূল্যের কৃষি জমি এবং ২৩ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি। রফিকুল ইসলামের স্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি টাকা এবং স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের স্থাবর সম্পদের মূল্য ৫ কোটি টাকা।
বিগত অর্থবছরে রফিকুল ইসলাম আয়কর দিয়েছেন ৩৭ হাজার ৮৫২ টাকা এবং তার স্ত্রী আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫ লাখ ৪ হাজার টাকা।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল