আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ৮৬ হাজার অপতথ্যের কনটেন্ট শনাক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার কনটেন্টকে হিংসাত্মক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এআইভিত্তিক অপতথ্যের সবচেয়ে বড় উৎস মেটা প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে ফেসবুক থেকে ছড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং এক্স থেকে ১০ দশমিক ১২ শতাংশ কনটেন্ট।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়েও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও এসব অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
এআই অপতথ্য শনাক্তে ইসিকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ই-মনিটর প্লাস প্ল্যাটফর্ম। প্রাপ্ত তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে এবং তারা নিজ নিজ সেল থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)ও ইসিকে সহায়তা করছে।
ইসি সূত্র জানায়, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে।
ই-মনিটর প্লাসের তথ্যে দেখা যায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ কনটেন্ট ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চল থেকে তৈরি হয়েছে। অপতথ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হয়েছে।
এদিকে টিকটক জানিয়েছে, এআইভিত্তিক অপতথ্য রোধে তারা ইন-অ্যাপ নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র চালু করেছে এবং গাইডলাইন বহির্ভূত বা রিপোর্ট হওয়া কনটেন্ট সরিয়ে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইউএনডিপি আমাদের সহায়তা করছে। টিকটকও তাদের মতো করে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে অপতথ্য শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হচ্ছে, তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল