রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক, যানজটমুক্ত ও নিরাপদ মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি রাজধানীবাসীর সামনে ভবিষ্যৎ ঢাকার রূপরেখা তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, নতুন রূপে সাজবে ঢাকা। যানজট, দূষণ ও বিশৃঙ্খলার নগরী নয়- আমরা ঢাকাকে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও আধুনিক মহানগর হিসেবে গড়ে তুলবো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকাকে নতুনভাবে সাজানোর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছেন, যা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর চেহারাই বদলে যাবে।
গণসংযোগকালে তুলি তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও পরিকল্পনার নতুনত্ব তুলে ধরে বলেন, তারেক রহমান নিজে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হয়েছেন। ঢাকা-১৪ আসন ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১২ আসন ছেড়ে দিয়েছেন একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের জন্য। এটাই তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নতুনত্বের প্রমাণ।
তিনি আরও জানান, বিএনপির ঘোষিত ইশতেহার কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী নগর পরিকল্পনার রূপরেখা। ইশতেহারে ঢাকাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে একাধিক বড় পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে ঢাকার বাইরে একাধিক আধুনিক স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণ, যাতে কর্মসংস্থান ও আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং যানজট কমবে। বিদ্যমান মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও আশপাশের এলাকাকে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তুলি জানান, বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট রুটে শুধু নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যেখানে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবেও নারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন। পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়তে ইলেকট্রিক যানবাহন চালু, বায়ুদূষণ কমাতে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) বাস্তবায়নের কথাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত। জননিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও টোলিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘শেয়ার্ড পার্কিং স্পেস’ চালুর মাধ্যমে পার্কিং সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রিকশা খাতের আধুনিকীকরণে রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান এবং আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এনে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়। ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে রিং রোড নেটওয়ার্ক ও রেডিয়াল সড়ক নির্মাণ এবং ‘সার্কুলার ওয়াটারওয়ে’ বা বৃত্তাকার নৌপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার সব ধরনের পরিবহন ও ট্রাফিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্বাধীন মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (এমটিএ) গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তুলি। তিনি বলেন, শুধু রাস্তা-ঘাট নয়, আমরা মানুষের জীবনমান বদলাতে চাই। ইশতেহার অনুযায়ী ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার, বস্তিবাসীর জন্য ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণ ও নিজ নামে রেজিস্ট্রি, শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বস্তি ছাড়ার আগেই প্রত্যেক পরিবারকে তাদের নতুন ফ্ল্যাটের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কেউ গৃহহীন থাকবে না।
শনিবার দিনভর ঢাকা-১৪ আসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নেন প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি। এসময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেবেন- পুরনো বিশৃঙ্খলা, নাকি নতুন পরিকল্পিত ঢাকা।
গণসংযোগ শেষে তুলির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা শুধু রাজধানী নয়, এটাই বাংলাদেশের মুখ। আমরা চাই এই শহর হোক পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য। ধানের শীষে ভোট দিন, নতুন ঢাকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করুন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ