মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুইনেট ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন তার ছোট ভাই শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের জন্য ভোট চাইলেন। শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রতীক হাঁস। মার্কিন সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন হাঁস মার্কায় ভোট, দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রথমবার দলের মনোনয়ন পেয়েও পরে বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় কেন্দ্রীয় বিএনপি শেখ মজিবুর রহমান ইকবালসহ দলের বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার ৬৭ জন নেতাকে চার দফায় বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃত নেতাদের সবাই হাঁস মার্কার পক্ষেই সক্রিয় আছেন বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে বাজিতপুর ডাকবাংলো মাঠে প্রার্থীর বাজিতপুর উপজেলায় সর্বশেষ নির্বাচনী গণজমায়েতে প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, এ বহিষ্কারই ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে পুরস্কার।
গণজমায়েতে শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন তার ছোট ভাই শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বাজিতপুর ও নিকলীবাসীর উদ্দেশে বলেন, ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভোট বৃথা যাবে না। আমি বাজিতপুরের সন্তান হয়ে যদি আমেরিকার সিনেটর হতে পারি, তাহলে আমার ভাইও এখানকার এমপি হবে।
উপস্থিত সবাইকে কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে টানা তিনবারের এই মার্কিন সিনেটর বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। আপনাদের কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন। আমি কথা দিচ্ছি, আমি আপনাদের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা করব।
তিনি বাজিতপুর ও নিকলীবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, দেশকে ভালোবাসি বলেই আমি বাংলাদেশে এসেছি। অন্য এলাকার তুলনায় বাজিতপুর ও নিকলী তেমন উন্নত হয়নি। আপনারা আমার ভাইকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমিও এলাকার উন্নয়নের জন্য সাহায্য করব।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল গণজমায়েতে আগতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের সবার সমর্থন ও ভালোবাসায় বিএনপি আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু আমার মনোনয়ন ছিনতাই হয়ে গেছে। এরপরও আপনারা আমার প্রতি পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখায় দল আমার সঙ্গে আপনাদের মতো নেতাদেরও বহিষ্কার করেছে। এর প্রতিদান আপনারা পাবেন।
শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর ও নিকলীবাসীর কাছে হাঁস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে সবাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। ভোটের ফলাফল নিয়েই তবে বাড়ি ফিরে যাবেন। তিনি তার প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য দলীয় বহিষ্কারের শিকার হওয়া দুই উপজেলার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আল্লাহ সহায় হলে এই বহিষ্কারের পরিবর্তে ১৩ ফেব্রুয়ারি আপনারা পাবেন পুরস্কার।
গণজমায়েতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল হোসেন, অধ্যাপক ইন্দ্রজিত দাস, অধ্যাপক মুসলেহউদ্দিন আহমেদ মাখন, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত দুই সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক ও বাজিতপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তফাজ্জল হোসেন বাদল, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরসহ বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার বহিষ্কৃত বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি