শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১৪:২০

ভাটিনা গ্রামের গাছে গাছে পাখিদের কিচির-মিচির

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর থেকে

ভাটিনা গ্রামের গাছে গাছে পাখিদের কিচির-মিচির

পশু-পাখিদের আস্তানা দিনাজপুর সদরের শেখপুরা ইউপির ভাটিনা গ্রাম। সন্ধ্যায় বের হয়ে খাবার সন্ধান শেষে সকালের আগেই ফিরছে পাখিরা তাদের বাশঁঝাড় কিংবা উচুঁ গাছের নীড়ে ফিরছে। আবার সকালে বের হয়ে সন্ধ্যার আগে নীড়ে ফিরছে বক, পানকৌড়ি, শালিকসহ নানান পাখি। তাই পাখির কোলাহলে সকালের ঘুম ভাঙে অনেকের। গাছে গাছে পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত সকাল-সন্ধ্যা। 

ভাটিনার মানুষ প্রকৃতি প্রেমিক। এ কারনে পশু-পাখীদের অভয়ারণ্য ভাটিনা গ্রাম। গ্রামের গাছে গাছে দেখা যায় পাখি কোনটি উড়ছে, কোনটি ডাকছে। আবার পুকুরগুলোতে দেখা যায় কোন পাখি মাছ শিকারে ব্যস্ত। এ গ্রামের প্রবেশ পথের পার্শ্বে পুকুর পাড়ের বাঁশঝাড়ের মাথায় বক, রাত চোরা, পান-কৌড়ি, শালিকের কলকাকলীসহ এসব দৃশ্য দেখা যায়। সকালে আর বিকালে পাখিদের আনাগোনায় মন জুরিয়ে যাবে সবার। এসব পাখি উড়ে অন্য কোথাও যায় না। ঘুরে ফিরে আবার ওই বাঁশঝাড়গুলোতে আসছে। তবে শীতের আগমনের সাথে সাথে এই গ্রামে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। শীত শেষে অতিথি পাখিরা আবার চলে যায়। তাই শীতের সময় এই পাখিদের বসে মেলা।

পরিবেশ বান্ধব এ গ্রামে বিকেল বেলায় পাখিদের কলকাকলীতে প্রকৃতির রূপ ফুটিয়ে তোলে। এ গ্রামের মানুষেরাও পশু-পাখীদের প্রেমিক। এখানে কেউ কোন পাখি শিকার করেও না এবং কাউকে করতেও দেয় না। কেউ কোন বক বা পান-কৌড়িকে ধাওয়া করে না বা করতে দেয় না স্থানীয় মানুষ। গাছ-গাছালীও বেশি। পরিবেশ এবং নিজেদের স্বার্থেই পাখিদের রক্ষা করা প্রয়োজন বলে এলাকার মানুষ মনে করেন। এভাবেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় দিনাজপুর সদরের উত্তর শেখপুরা ইউপির এলাকার এই গ্রামে কয়েক হাজার পাখির স্থায়ী আবাসে পরিণত হয়েছে। 

বর্ষা মৌসুমে এখানে প্রায় ২৫/৩০ হাজার বর্ষালী পাখিও আস্তানা গড়ে। তখন মুখরিত হতে থাকে পাখির কলকাকলীতে। বৈশাখ মাসে পাখিরা বাচ্চা দেয় এবং তখন ঝাকে ঝাকে পাখিদের চলে কিচির-মিচির শব্দ। এ সময় কিছু অতিথি পাখিও আসে। অনবরত শোনা যায় ডাহুকের ডাক। এরকম এক গ্রামবাংলায় কেউ এসে বেরিয়ে গেলে কখনও ভুলতে পারবে না।

তবে এটা প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেনি। এই অবস্থা কিভাবে সম্ভব হলো তা খুঁজে দেখতে গেলে সবার আগে বেরিয়ে আসবে আবুল হাসেমের নামটি। তিনি ভাল জানেন কোন পাখিকে কখন ভাল দেখা যায়, কোন বাশঁঝাড়ে আছে ইত্যাদি। এ কারণে আবুল হাসেম ২০১৩ সালে বন্যপ্রানী ও প্রকৃতির উপর বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এরপর ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর পক্ষ থেকেও ২০১৬ সালে পাখির উপর তিনি পুরস্কার পান।

এ ব্যাপারে আবুল হাসেম জানান, পরিবেশ উন্নয়নে পাখিদের রক্ষা, শিয়াল, বিড়াল, গুইসাপ, বেজী প্রভৃতি প্রাণীদের সংরক্ষণে এলাকার লোকজনকে অনুপ্রানিত করার চেষ্টা করেছি। আর এ কারণে এসব প্রাণী ও বর্ষালী পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। বিকালে এসব পাখিদের বিচরণ দেখলে মন জুরিয়ে যায়। জীবনের বাকী সময়গুলো এলাকার পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নেই ব্যয় করবেন বলেও জানান তিনি।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য