শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০

প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে

আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান সব সময়ই জিরো টলারেন্সে। তবে বিশ্ব আজ যে বহুমাত্রিক সন্ত্রাসের হুমকির সম্মুখীন, তা কোনো দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। রাজধানীতে হোটেল রেডিসনে গতকাল এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধানদের সম্মেলন (এপিআইসিসি) উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য 'দ্য ফিউচার, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর সিকিউরিটি কো-অপারেশন'। সপ্তম এপিআইসিসি অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর বাংলাদেশ (ডিজিএফআই) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের যৌথ আয়োজনে। পাঁচ দিনের এ সম্মেলনে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৭টি দেশের গোয়েন্দাপ্রধানরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশে দেশে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে। তারা সাধারণ মানুষের জানমালের পাশাপাশি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ জঙ্গিগোষ্ঠীর মোকাবিলা শান্তিকামী দেশগুলোর জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জের। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাসীদের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। এরা দেশের শত্রু, দেশের মানুষের শত্রু, বিশ্বমানবতার শত্রু। এরা বিশ্বশান্তির পথে অন্তরায়। আশা করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের পরস্পরর মধ্যে বিদ্যমান দেয়ালগুলো ভেঙে যাবে। আপনাদের মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে এবং বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে।' সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশের মাটি যাতে কোনো বিদেশি উগ্রবাদের চারণভূমি হতে না পারে, সে জন্য আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। কোনো হুমকিই আমাকে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নেওয়া অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না।' সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শান্তি রক্ষায় এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সব আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তিনামা ও উদ্যোগের সক্রিয় অংশীদার। সন্ত্রাস ও অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২০০৯ সালে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'আমার বক্তৃতায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার যে প্রতিজ্ঞা আমি করেছিলাম, তাতে আমি আমৃত্যু অবিচল থাকব।' বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা গোয়েন্দা কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখবেন, সন্ত্রাসীরা তাদের টিকে থাকার জন্য সব সময় উদ্ভাবনী শক্তিতে খুবই তৎপর। যখনই তাদের কোনো একটা কর্মকৌশল উদঘাটিত হয়, সঙ্গে সঙ্গে তারা নতুন কৌশলের উদ্ভাবন ঘটায়। কাজেই আপনাদের মিশন সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। এ সম্মেলন শেষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য নতুন নতুন কর্মকৌশল উদ্ভাবন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আপনাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বশান্তির শত্রুদের পরাজয় ঘটবে এবং আমাদের বিজয় হবে।' অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিজিএফআইর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আকবর হোসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) পরিচালক ডগলাস এইচ ওয়াইজ। অন্যান্যের মধ্যে তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য