Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৯ ২২:২২

অভিনন্দন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

অভিনন্দন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন তাদের নয় বছর পূর্তি করেছে। পদার্পণ করেছে দশম বছরে। একটি সংবাদপত্রের জন্য নয় বছর হয়তো খুব বেশি সময় নয় কিন্তু এটি নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক। তবে নয় বছর পূর্তি থেকেও বড় মাইলফলক হচ্ছে এটি পরপর ছয়বার সবচেয়ে বেশি প্রচারিত সংবাদপত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, সংসদে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটি আমরা জানতে পেরেছি। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে অভিনন্দন, কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, এটি কিন্তু তাদের ওপর বিশাল একটি দায়িত্ব অর্পণ করেছে। যে পত্রিকাটি সবচেয়ে বেশি মানুষ পড়ে তাদের ভুল করা যাবে না, তাদের সাধারণ পাঠককে বিভ্রান্ত করা যাবে না, গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যাবে না। সাধারণ মানুষ খবরের কাগজ পড়ে খবরের জন্য, খবরের বিশ্লেষণের জন্য নয়! কাজেই খবরটুকু খবর হিসেবেই পরিবেশন করতে হবে, বিশ্লেষণের দায়িত্বটুকু পাটকদের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে।

কোনো কিছু টিকে থাকতে হলে তার বাণিজ্যিক দিকটি দেখতে হয় কিন্তু যদি বাণিজ্যিক দিকটিই মুখ্য হয়ে যায় তখন আমরা হতাশ হই। সংবাদপত্রের জন্য সেটি অনেক বেশি সত্যি, সাধারণ মানুষ কী চায় সেটি হিসাব করে যদি সংবাদপত্র প্রকাশ হতে থাকে তাহলে কিন্তু সেটি সঠিক দায়িত্ব পালন হলো না। একটা উদাহরণ দেই, গাইডবই ভিত্তিক লেখাপড়া সত্যিকারের লেখাপড়া নয়, কিন্তু তারপরও অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েদের হাতে গাইডবই তুলে দেন। এ বিষয়টি মাথায় রেখে বড় বড় সংবাদপত্র তাদের পত্রিকায় নিয়মিত গাইডবই প্রকাশ করে। ঠিক সেরকম জাতীয় সংবাদপত্র সারা দেশের জন্য, সিলেটে বসে আমি কুড়িগ্রামের সংবাদ পেয়ে যাব ঠিক সেরকম কুড়িগ্রামের একজন চট্টগ্রামের খবর পেয়ে যাবে। কিন্তু সংবাদপত্রের বিক্রি বাড়ানোর জন্য তারা যদি প্রত্যেকটা অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদাভাবে সংবাদপত্র বের করে তাহলে সেই জাতীয় পত্রিকার রূপটি থাকল কোথায়। আঞ্চলিক খবরের জন্য আঞ্চলিক সংবাদপত্র থাকে, জাতীয় পত্রিকা কেন বাণিজ্য মাথায় রেখে আঞ্চলিকতাকে উৎসাহিত করবে?

সবশেষে আমার প্রিয় কথাটি বলে শেষ করি। এ দেশটি মুক্তিযুদ্ধ করে এসেছে। আমাদের খুবই দুর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের প্রায় অর্ধশতাব্দী পরেও এ দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠীটি এখনো তাদের মতো করে টিকে আছে। চিহ্নিত রাজাকারদের থেকে সবাই সতর্ক থাকে কিন্তু মুখোশ পরে থাকা রাজাকাররা খুবই বিপজ্জনক। তাদের বেঁচে থাকার ক্ষেত্র হচ্ছে নিউজ মিডিয়া, সেখানে তারা সুশীল সমাজের ছদ্মবেশে ইনিয়ে বিনিয়ে নিজেদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আমি আশা করব বাংলাদেশ প্রতিদিন যেন কখনোই তাদের ফাঁদে পা না দেয়। শুধু তাই নয়, তারা যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের জন্য তাদের এই সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্রটিকে উৎসর্গ করে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের পেছনে শ্রম দেওয়া সবার জন্য রইল অভিনন্দন।


আপনার মন্তব্য