শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৭

বালিশকাণ্ডে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১৩ জন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বালিশকাণ্ডে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১৩ জন কারাগারে

পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালিশকা-সহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুল আলমসহ ১৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ ও নাসির উদ্দিন। দুদকের পক্ষে আইনজীবী মীর আহম্মেদ আলী সালাম ও মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন। আসামিদের আইনজীবী গোলম সারোয়ার মণি জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এর আগে সকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে ৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে চারটি মামলা করে কমিশন। এসব মামলায় গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুল আলমসহ ১৩ জনকে আসামি করে দুদক। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলেন পাবনা গণপূর্ত উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল কবির, মোস্তফা কামাল, শফিকুল ইসলাম, আহমেদ সাজ্জাদ খান, সুমন কুমার নন্দী, আবু সাঈদ, রওশন আলী ও তাহাজ্জুদ হোসেন; সহকারী প্রকৌশলী তারেক, আমিনুল ইসলাম, মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আসিফ হোসেন ও সাজিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী শাহাদত হোসেন। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

 ১৭ অক্টোবর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালিশকা সহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুদক। ওইদিন কমিশনের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করে সংস্থাটি। রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা ও ভবনে তোলার কাজে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সেখানে একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, আর আর সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়েছে। এভাবে রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, খাট, বিছানা, ওয়ারড্রোব, বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদ্যুতিক কেটলি, রুম পরিষ্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে।

‘বালিশকান্ডে  ক্ষতি ৩১ কোটি টাকা’ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য বালিশ, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় সরকারের ৩১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ নিয়ে মামলা হয়েছে। মামলায় কেউ বাদ পড়লে তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে। অতিদ্রুত অনুসন্ধান করে এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে। প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি দমনে কমিশন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মেগা প্রকল্পে কমিশনের নজরদারি আছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষায় ভর্তিবাণিজ্য বরদাশত করা হবে না। কোচিং ও গাইড বই ব্যবসায়ীদের অবৈধ সম্পদ খুঁজে বের করা হবে। কোচিং বাণিজ্য করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। দুর্নীতিপরায়ণ কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভর্তিবাণ্যিজ্যে যে বা যারা সম্পৃক্ত হবেন বা হয়েছেন তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা ভর্তিবাণিজ্যের মতো অনৈতিক পাপকে স্পর্শ করুক তা আমরা চাই না। তাদের শিক্ষাজীবন দুর্নীতি দিয়ে শুরু হতে পারে না। নিয়ম-নীতির মধ্যে সব রকম ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর