শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৩

ঢামেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ১০ কর্মী কারখানা সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢামেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ১০ কর্মী কারখানা সিলগালা

কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় পুড়ে যাওয়া কর্মীদের ভয়াবহ অবস্থা দেখে চিকিৎসকরাও আঁতকে উঠছেন। এখনো জীবন-মৃত্যুর সীমারেখায় রয়েছেন দগ্ধ ১০ কর্মী। শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় প্রত্যেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন আটজনের শঙ্কা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

গতকাল সকালে পুড়ে যাওয়ার ভয়াবহতা বোঝাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত যত আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে সর্বোচ্চ বা বেশি মাত্রায় পোড়া রোগী এসেছে কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকান্ডে র পর। ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় এত ভয়াবহ বার্ন দেখিনি।

তিনি বলেন, আমাদের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আগুনে পোড়া এমন রোগীও আছে, যাদের চেনা যায় না। শ্বাসনালি খুব বাজেভাবে পুড়ে গেছে। এখানে চিকিৎসাধীন ১০ জন রোগীর সবার ৬০ থেকে ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। প্রত্যেকেরই মুখম ল ও শ্বাসনালি এমনভাবে পুড়েছে যে, সেটা রিকভার করা অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। ঢামেকের বার্ন ইউনিটে যারা ভর্তি আছেন তারা শঙ্কামুক্ত। তাদের শরীরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পোড়া আছে। এদিকে ১২ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মাহবুব হোসেনের (২৬) লাশ এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। তার ডিএনএর পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে মিলিয়ে তার লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে ঢামেক মর্গ সূত্র। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে র ঘটনায় কেরানীগঞ্জের ‘প্রাইম প্লেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ প্লাস্টিক কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বেলা ১১টায় কারখানাটি সিলগালা করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দেবনাথ। এর আগে উপজেলার শুভাঢ্যা এলাকায় একই মালিকের আরও একটি কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এ সময় ইউএনও অমিত দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) কারখানা দুটি পরিদর্শন করেন। তার নির্দেশেই কারখানা দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। সিলগালা করা একই মালিকের দ্বিতীয় কারখানাটিও আবাসিক এলাকার মধ্যে। কারখানাটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। বুধবার বিকালে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার হিজলতলার ‘প্রাইম প্লেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ’ প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকা  হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর কারখানাটিতে প্রথম আগুন লাগে। গত ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো আগুন লাগে। এ দুটি অগ্নিকান্ডে  কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কারখানার মালিকের বিচার দাবি : কেরানীগঞ্জে প্রাইম প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকান্ডে  দায়ী মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর শাখা। একই সঙ্গে নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহতদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং সরকারের সঙ্গে পাটকল শ্রমিকদের সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহানগর শাখার সভাপতি জুলফিকার আলী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতন্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিমল চন্দ্র সাহা, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, নগর শাখার নেতা রতন মিয়া, মনির হেসেন প্রমুখ। রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, কেরানীগঞ্জের প্রাইম প্লাস্টিক কারখানায় গত দুই বছরে ৪ বার আগুন লেগেছে। এ বছরের এপ্রিল মাসেও আগুন লাগে। তখন ব্যবস্থা নিলে আজ ১৪ জন শ্রমিক পুড়ে অঙ্গার হতো না। এখন মন্ত্রীসহ শ্রম দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বলছেন, এ কারখানা চালানোর কোনো অনুমোদন মালিকের নেই। প্রশ্ন হচ্ছে রাজধানীর কেন্দ্র থেকে মাত্র ৪/৫ মাইলের দূরত্বে এই কারখানা চলছিল কার অনুমতিতে? শ্রম দফতর ও মন্ত্রীরা কী দায়িত্ব পালন করেছেন?


আপনার মন্তব্য