শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৫

ফল বিলম্বের তিন কারণ ‘না ভোট’ তিন হাজার!

গোলাম রাব্বানী

ফল বিলম্বের তিন কারণ ‘না ভোট’ তিন হাজার!

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থী না থাকায় লাল বাটন টিপে ‘না ভোট’ দিয়েছেন ৩ হাজার ৯২ জন ভোটার। তবে নির্বাচন কমিশনের এই সংখ্যার সঙ্গে অনেকেই একমত নন, বাতিল ভোট বা না ভোটের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই সিটির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই সিটিতে গড়ে ২৭.১৫ শতাংশ ভোট পড়লেও প্রায় ২৫০ ভোট কেন্দ্রে ৮/৯ ভাগ ভোটও পড়েছে। এ ছাড়া ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে প্রায় ৩০০ ভোট কেন্দ্রে। দক্ষিণ সিটির চেয়ে উত্তর সিটিতে ভোট প্রদানের হার কম। তবে নির্বাচন কমিশন কয়েকদিনের মধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ করলেও এই সংখ্যা বাড়তে-কমতে পারে। ভোটের নানা সমস্যার বিষয়ে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় ভোট দিতে পারেননি। ভোট কেন্দ্রের তথ্য না পাওয়ায় ভোট কেন্দ্র থেকে ফিরেও যান শত শত ভোটার। এ ছাড়া ভোট দিতে গিয়েও অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন ভোটাররা। কিন্তু তাদের কোনো পরিসংখ্যান কমিশনের কাছে নেই। অনেকেই আবার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার কাছে অনুমতি নিয়েও ভোট দিয়েছেন। দুই সিটিতে ভোটগ্রহণের জন্য ৮ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও ফলাফল প্রকাশে নেই কোনো বাধা-ধরা নিয়ম। এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ফলাফল প্রকাশে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়েছেন উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম। তিন কারণে ফলাফল বিলম্ব বলে জানিয়েছেন দুই রিটার্নিং অফিসার। সেগুলো হলো- প্রিসাইডিং অফিসাররা ট্যাবে রেজাল্ট পাঠাতে ভুল করা ও ট্যাবের টেকনিক্যাল ত্রুটি। নেটের ধীরগতি এবং ভোটের এলাকা বিশাল হওয়ার কারণে ফলাফল দিতে বিলম্ব হয়েছে। দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ হলেও বিলম্ব ফলাফল ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, সময়মতো ফলাফল ঘোষণা না করতে পারাটা ইসির জন্য ব্যর্থতা। ফলাফল ব্যবস্থাপনার নানা ত্রুটির কথা তুলে ধরেছেন কর্মকর্তারা। 

৩ হাজার না ভোট : এবারে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৭ লাখ ১১ হাজার ৪৮৮টি। এর মধ্যে ‘না ভোট’ বা বাতিল ভোট হচ্ছে ১৫৬২টি। এ সিটিতে মোট ভোটার ছিল ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৯ জন। উত্তর সিটিতে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮টি। এর মধ্যে বাতিলকৃত বা অবৈধ ভোট হচ্ছে ১৫৩০টি। দুই সিটিতে মোট না ভোট পড়েছে ৩ হাজার ৯২টি।  

এ নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী না থাকায় ৩ হাজার ৯২ জন ভোটার কাউকে ভোট না দিয়ে ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে ‘লাল’ বাটন টিপে ভোট সম্পন্ন করেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন এসব ভোটকে বাতিল বা অবৈধ ভোট বলে বিবেচনা করছে। ইভিএমেও বাতিল ভোট কীভাবে হয়। জানতে চাইলে উত্তর সিটির রিটার্নিং অফিসার আবুল কাসেম গতকাল জানান, ইভিএমে ভোট বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। ধরেন এ নির্বাচনে তিনটি পদ ছিল, মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর। যদি কোনো ভোটার মনে করেন তিনি মেয়র প্রার্থীকে ভোট দেবেন। কিন্তু সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোট দেবেন না। তখন ভোটার লাল বাটন টিপে ওই ভোট দেবেন। ইসির কর্মকর্তারা বলেন, এটাকেই অবৈধ ভোট, বাতিল ভোট অথবা ‘না ভোট’ বলা হয়।

ইভিএমের ফল প্রকাশে দেরির কারণ জানালেন রিটার্নিং কর্মকর্তা : ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফল প্রকাশের আশা দেখিয়েছিল নির্বাচন কমিশন; কিন্তু ঢাকা সিটি নির্বাচনের বেলায় তা ঘটেনি। সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেছেন, যান্ত্রিক ত্রুটিই এ দেরির কারণ। নির্বাচনের পর দিন গতকাল দুপুরে উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আগারগাঁওয়ের ইটিআই ভবনে ফল বিলম্বের ব্যাখ্যা দেন সাংবাদিকদের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন শনিবার রাতে ফল ঘোষণার সময়ই বলেছিলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়। শনিবার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ বিকাল ৪টায় শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পরই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা ফল ঘোষণা শুরু করেছিলেন দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা। এবার দুই সিটির ২৪০০-এর বেশি কেন্দ্রের সব কটিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। ইসির ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামাল উদ্দিন আগে বলেছিলেন, ভোট শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ট্যাবের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফল পাঠিয়ে দেবেন। পরে কেন্দ্রীয়ভাবে তা ঘোষণা করা হবে। এজন্য প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং, পোলিং কর্মকর্তাদের ‘যথেষ্ট প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণের ১১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭৫টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর রাত পৌনে ১১টায় ফল ঘোষণা আটকে যায়। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় সব কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

 দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসাররা ট্যাবে রেজাল্ট পাঠাতে ভুল করেছেন, অনেকে ম্যানুয়ালি পাঠিয়েছেন। যারা ভুল করেছেন, তাদের আলাদা আলাদাভাবে কল করে আমরা ম্যানুয়ালি রেজাল্ট নিচ্ছি। দক্ষিণের ফলাফল ঘোষণার তিন ঘণ্টার পরে উত্তরের ১৩১৮ কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ইভিএমের এ নির্বাচনের ফল আসে, কাগজে ব্যালটের ক্ষেত্রেও একই সময় লেগেছিল এর আগে। ফল ঘোষণার সময় দেরির কারণ জানতে চাইলে উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাসেম শনিবার সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়েছিলেন। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ইভিএমের ফলাফল কেন্দ্রে হয়ে গেছে। আমাদের এলাকা অনেক বড়, সেই সাঁতারকুল, বেরাইদ পর্যন্ত। ওইখানে আমাদের যে নেট ছিল, তা ধীরগতির ছিল। এ কারণে আমাদের দেরি হয়েছে। ট্যাবের মাধ্যমে আমরা যে ফলাফল নিয়েছি, ওখানে নেটওয়ার্কে বা আমাদের কিছু টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে ফলাফল দিতে বিলম্ব হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে দ্রুত সময়েই ফল তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইভিএমের ফলাফল ভোটের আধা ঘণ্টার মধ্যেই হয়ে গেছে। কিন্তু পথে আসতে দেরি হয়েছে। পরবর্তীতে আমাদের কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেরি হয়েছে। এর জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সিটি নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসির এই যুগ্ম সচিব।


আপনার মন্তব্য