শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩০

জাতিসংঘ ওআইসির উদ্বেগ

দিল্লি থমথমে নিহত ৩৭

নয়াদিল্লি প্রতিনিধি

দিল্লি থমথমে নিহত ৩৭
দিল্লিতে সহিংসতা হওয়া সেই সড়কটি গতকাল -এএফপি

দাঙ্গার পঞ্চম দিনে গতকাল ভারতের রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি শান্ত। তবে আগের রাত পর্যন্ত দাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭-এ, আহত হয়েছেন ২ শতাধিক ব্যক্তি। এদিকে এ দাঙ্গার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি ও জাতিসংঘ। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বলেছেন, সার্বিক ঘটনা ভারতের জন্য ‘জাতীয় লজ্জা’।

গতকাল দিল্লির সর্বত্র অনেকটাই থমথমে অবস্থা দেখা গেছে। দিনে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি। রাস্তাঘাট ছিল জনশূন্য। নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন পূর্ণ সতর্কাবস্থায়। রাতের পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবেÑ তা নিয়ে জনসাধারণের মাঝে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করেছে। উল্লেখ্য, আগের রাত পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত দাঁড়ায় ৩৭-এ। বুধবার শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ছিল ২৭। গতকাল সকালে আরও ১০ জনের মৃত্যুর খবর               পাওয়া যায়। এদিকে ‘পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে’ দাবি করে দিল্লি পুলিশ ১৮টি মামলা দায়ের করেছে ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মনমোহন-সোনিয়ার সাক্ষাৎ : দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে। সে দলে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। তিনি রামনাথকে বলেন, ‘দিল্লিতে চার দিনে যা ঘটেছে তা জাতীয় লজ্জার বিষয়।’ পরে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে তাঁকে বলি যে, তিনি যাতে এই বিষয়ে কেন্দ্রকে পরামর্শ দেন। দিল্লিতে চার দিনে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এবং জাতীয় লজ্জার। যা ঘটল তা কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি রাষ্ট্রপতি রামনাথকে বলেন, হিংসায় পাঁচ দিনে ৩৭ জনের প্রাণ গেছে, আর বিজেপি-আপ ‘নীরব দর্শক’-এর ভূমিকা পালন করছে। তিনি রাষ্ট্রপতিতে ‘রাজধর্ম’ (দুষ্টের দমন-শিষ্টের পালন) পালনের অনুরোধ জানান। এইসঙ্গে তিনি দাঙ্গা সামলানোয় ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।

ওআইসি-জাতিসংঘের উদ্বেগ : দাঙ্গায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম দেশগুলোর জোট দ্য অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) ও জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস তাঁর বিবৃতিতে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আহ্বান জানান।

সরকারের সমালোচক বিচারপতিকে বদলি : দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি এস মুরলিধরকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে হরিয়ানা হাই কোর্টে বদলির প্রজ্ঞাপন গত বুধবার রাত ১১টার দিকে জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এ প্রজ্ঞাপন জারি করে। উল্লেখ্য, দিল্লিতে কয়েক দিন ধরে চলা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনায় গত বুধবার কেন্দ্র-রাজ্য সরকারের পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করেছিলেন বিচারপতি এস মুরলিধর। দিল্লি হাই কোর্টে এক শুনানিতে বিচারপতি এস মুরলিধর বলেছিলেন, ‘আমরা ১৯৮৪ সালের মতো আরেকটি ঘটনা দেশে ঘটতে দিতে পারি না।’ দিল্লির সহিংসতা থামাতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে একত্রে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

ছয় মুসলিমের প্রাণ বাঁচিয়ে প্রেমকান্ত মৃত্যুমুখে : দাঙ্গার সময় দিল্লিতে ছয় মুসলিমকে প্রাণে বাঁচানো প্রেমকান্ত এখন নিজেই মৃত্যুর মুখোমুখি। তিনি আগুনে জ্বলতে থাকা ঘরগুলো থেকে একে একে মুসলিমদের বের করে এনেছিলেন। মুসলিম বন্ধুর বয়স্ক মাকে জ্বলন্ত ঘর থেকে বের করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হন প্রেমকান্ত। তখন তার শরীরের অন্তত ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। প্রেমকান্তর চিকিৎসা চলছে, তবে জীবন তার সংকটাপন্ন।

‘হিংসার নিশানায় মুসলিমরাই’ মার্কিন কমিশন : ভারত সফরে থাকাকালে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি ফিরে যেতেই গোটা ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তাদের অভিযোগ, বেছে বেছে মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। অথচ সব দেখেশুনেও নীরব সরকার। নৃশংস এবং লাগামছাড়া হিংসা রুখে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ তারা। অন্যদিকে মার্কিন এই সংগঠনের অভিযোগ খারিজ করে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য’ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র দফতর।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর