শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:১৪

সমন্বয়হীনতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে

মন্ত্রী বললেন মৃত্যু ৪ আক্রান্ত ২৯, অধিদফতর বলছে মৃত্যু ৩ আক্রান্ত ৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমন্বয়হীনতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলল মৃত্যু ৩। মন্ত্রী জানালেন আক্রান্ত ২৯, অধিদফতর জানাল আক্রান্ত ৩৫। গতকাল দুপুরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন এসব তথ্য জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরই দুই অংশ। করোনাভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগের সংক্রমণ রোধে পুরো দেশ যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে তখন এ কেমন সমন্বয়হীনতা। অবশ্য সব দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান হলেও আমাকে কিছুই জানানো হয় না।

গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের এক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে ১১৭ জন আক্রান্ত হলেন। নতুন চারজনসহ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়াল। এই অনুষ্ঠানের এক ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তথ্য সংশোধন করে দেন। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৫ জন আক্রান্তের পাশাপাশি তিনজন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১২৩ জন। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদফতর দুই রকম তথ্য দেওয়ায় তৈরি হয় বিভ্রান্তি। দুই রকম তথ্য নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে সংবাদ সম্মেলনে একটি ব্যাখ্যা দেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আজাদ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সকালে যে সংখ্যাটি বলেছিলেন, সেটা তারই দেওয়া। কিন্তু এরপর সেই তথ্য আরও হালনাগাদ হয়েছে। তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা কমে গেল কীভাবে- এই প্রশ্নের উত্তরে আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেই সময় নাম নিয়ে একটা সমস্যা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেখা গেল এই যে দুটো নাম আসলে বানানের একটু সমস্যা ছিল। তখন তারা মনে করেছিল দুটো। পরে যাচাই করে দেখা গেছে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মহাপরিচালক বলেন, সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে সেটাই সর্বশেষ তথ্য। এটা নিয়ে আর বিভ্রান্তির ‘সুযোগ নেই’। অবশ্য শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কয়েক লাখ পিপিই বরাদ্দের কথা বারবার বলা হলেও ডাক্তাররা পর্যাপ্ত পিপিইর অভাবে চিকিৎসা দিতেই চাচ্ছেন না। করোনাকালে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অযাচিত ও দায়িত্বহীন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে তা প্রত্যাহার করার ঘটনা একাধিকবার ঘটিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আবার করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত মাস্কের নামে নকল মাস্ক পাঠানোর অভিযোগ আছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে। পুরো দেশ যখন অঘোষিত লকডাউনে আছে তখন গার্মেন্ট কারখানা খোলার ঘোষণা দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিককে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আনা-নেওয়া করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে কাউকে কোনো সুপারিশও করেনি। কোনো বক্তব্যও দেয়নি। মসজিদে নামাজ কীভাবে হবে এবং কখন রাস্তা খুলে দেওয়া হবে তার বিষয়গুলোর সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটির নেওয়ার কথা থাকলেও সেসব ক্ষেত্রেও নেই কোনো সমন্বয়। গতকাল দুপুরের ওই অনুষ্ঠানে এসব বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমাকে অনেক প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে, দেশে-বিদেশে অনেকেই অনেক প্রশ্ন করেন। অনেক প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারি না। অনেকে অনেক দোষারোপ করেন, কিন্তু সব দায় কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের? সব জবাব কি আমি দেব? মন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান হলেও আমাকে কিছুই জানানো হয় না। তার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত না নিলেও অন্তত পরামর্শ যেন করে নেওয়া হয় সে কথা বলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর