শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৪২

শেরপুরে তিন এমপি না করায় দুই করোনা রোগীর তিন ঘণ্টার সংকট

শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরে তিন এমপি না করায় দুই করোনা রোগীর তিন ঘণ্টার সংকট

নিজ এলাকায় কোথাও ‘ঠাঁই দেওয়া হবে না’- এ ব্যাপারে শেরপুরের তিন এমপির সুদৃঢ় ঐকমত্যের কারণে করোনার দুই নারী রোগী ৫ এপ্রিল রাতে তিন ঘণ্টা ধরে ভুগেছেন। অবশেষে মধ্যরাতে একজন এমপি ‘মানবিক’ হওয়ায় ২৫০-শয্যার সদর হাসপাতালে তাদের আইসোলেশনে আনা হয়েছে। গোটা বিষয়টি জনমনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

সূত্র জানায়, ৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টায় ওই দুই নারীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাদের সরকারি আইসোলেশনে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে শেরপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, তিন এমপির কেউই তার এলাকায় এই রোগীদ্বয়কে ঠাঁই দিতে নারাজ। জানা যায়, আইসোলেশনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গালমন্দও শুনতে হয়েছে। তবে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর আসনের এমপি এবং হুইপ আতিউর রহমান আতিক সদর হাসপাতালে ওই হতভাগা নারীকে রাখতে দিতে রাজি হন। তারপর এই হাসপাতালে কুষ্ঠ ওয়ার্ডে তাদের আনা হয়। কিন্তু ‘এই হাসপাতালে করোনা রোগী এসেছে’ জানাজানি হওয়ামাত্রই বেশ কজন রোগী পালিয়ে যান। এমনিতেই আগে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই চলে গেছেন। বহির্বিভাগে চলছে সুনসান নীরবতা। হাসপাতালের আশপাশে থাকা মানুষজন ও হাসপাতাল কম্পাউন্ডে সরকারি আবাসিক এলাকায় বাস করা কর্মকর্তা কর্মচারীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। ডাক্তার নেই। সেবিকারা হাজিরা দিয়েই খালাস। শুধু অফিস কক্ষ সচল; সব সেবা বন্ধ। বেশ কটি পরিবার হাসপাতাল কম্পাউন্ড ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে। আয়া সুইপার আসে না। এমতাবস্থায় এ হাসপাতালে করোনা রোগীর ভয়ে অন্য রোগীরা আসতে চাইছে না। জানা গেছে, শেরপুর জেলায় করোনা রোগী আইসোলেশনের জন্য ১৫০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন উপজেলায়। ঝিনাইগাতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০টি, নকলার উরফা ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০টি, নালিতাবাড়ীর রাজনগর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি, শ্রীবর্দী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি ও সদর হাসপাতালে ১০টি শয্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, যেখানে রোগী ও লোকের ভিড় নেই সে রকম আইসোলেশনের নির্দিষ্ট জায়গায় ওই দুই নারী করোনা রোগীকে রাখা উচিত- এই চিন্তায় রাজনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ঝিনাইগাতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। কারণ এ দুটি হাসপাতাল কদিন ধরেই রোগীশূন্য। কিন্তু এই দুই জায়গার প্রস্তাব আসতেই বেঁকে বসেছিলেন ওই দুই এলাকার এমপি। সিভিল সার্জন একেএম আনওয়ারুল রউফ বলেন, করোনা আক্রান্তদের জেলা হাসপাতালে না রেখে রাজনগর অথবা ঝিনাইগাতিতেই রাখলে ভালো হতো। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সদর হাসপাতালে এখন মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছে না, এটা স্বীকার করে হুইপ আতিক বলেন, রাজনগরে ওই দুই রোগীকে রাখতে চাওয়া হলে কর্মকর্তাদের গালি গালাজ করেন ওই আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য। ঝিনাইগাতিতে রাখা যায়নি ওই আসনের এমপির বিরোধিতায়। হুইপ আতিক আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই সদর হাসপাতালে কোনো করোনা রোগীকে রাখা হবে না। রাখলে এই হাসপাতালে অন্যান্য রোগীর সেবা বন্ধ হয়ে যাবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর