শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:০০

ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন ৬ লাখ ব্যাংক কর্মকর্তা

আলী রিয়াজ

করোনাভাইরাসের এই কঠিন ঝুঁকির মধ্যেও নিরলস কাজ করছেন প্রায় ৬ লাখ ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী। পুরো দেশ লকডাউনে ঘরে থাকলেও মানুষের ব্যাংকিং সেবা দিতে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে খোলা রাখা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের শাখা। সরকার ঘোষিত ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা বাস্তবায়নে ব্যাংক কর্মকর্তারাই কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকজন ব্যাংকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও থেমে নেই ব্যাংকিং কার্যক্রম। সারা দেশে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। প্রতিদিনের লেনদেন ছাড়াও প্রান্তিক এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ভাতা প্রদান করছে ব্যাংকগুলো।

জানা গেছে, জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত কয়েকদিনে কয়েকটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। মূলত সরকারের সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা, উত্তোলন, শুধু জরুরি বৈদেশিক লেনদেন, ডিডি ও পে-অর্ডার সেবার পাশাপাশি ট্রেজারি চালান জমা ও ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার আওতাধীন বিভিন্ন সেবা চালুর রাখা হয়েছে। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন ও প্রতি মাসের মুনাফা তোলার সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। সারা দেশের ব্যাংক শাখাগুলো থেকে এসব সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন ব্যাংকাররা। সীমিত আকারে সেবা দিলেও ব্যাংকগুলো প্রায় ৩৭ ধরনের লেনদেন করছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংক যেগুলো সরাসরি সরকারের কাজ করে থাকে তাদের প্রায় সব শাখা এবং অন্যগুলোর সীমিত সংখ্যক শাখা খোলা রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে মাসের প্রথমদিকে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দেওয়া হয়েছে। এখন চলছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও সামাজিক ভাতাভোগীদের ৩৭ ধরনের ভাতা প্রদান। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হবে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন প্রদান। ব্যাংক কর্মীরা এসব কাজ ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন। শুধু ব্যাংকিং শাখা নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন তদারকি করে যাচ্ছে ব্যাংকিং সেবা। খোলা রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেশের অন্যান্য এলাকার শাখাগুলোও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেন সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক লেনদেন বিভাগ, বিআরপিডিসহ বেশির ভাগ বিভাগের কর্মকর্তারাও কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে কমবেশি ১২ হাজার কোটি টাকা কল মানিতে লেনদেন হচ্ছে। তারল্য সংকট মোকাবিলায় দুই দফা সিআরআর ও রিপো রেট কমিয়েছে। গার্মেন্ট কর্মীদের বেতনের ৫০০০ কোটি টাকা বিতরণের জন্য নীতিমালা করা হয়েছে।  সরকারের ঘোষিত ৭২,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি গতকাল সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তার সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনোভাবেই কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র যাবেন না। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সর্বদা দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন। নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করছেন না। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা দাবি জানিয়েছেন, সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে হবে। জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ও স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ইউনিট সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান বলেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন এবং দেশের প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুর্যোগ মুহূর্তে আমাদের সব কর্মকর্তাই মাঠে আছেন। তাই ব্যাংক কর্মকর্তাদের সেবা খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সবার জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর