শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০২০ ০০:০৭

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে

-ড. নাজনীন আহমেদ

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে

অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, করোনা পরবর্তী দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে হলে নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। আর এ খাতের যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা রয়েছেন তাদেরও ব্যাংক ঋণের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি যারা ব্যাংক ঋণের আওতায় পড়বে না তাদের অন্য কোনো এনজিও বা ঋণদান সংস্থার মাধ্যমে সহজ-শর্তে ও স্বল্প সুদের ঋণের আওতাভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নারীরা যে গৃহস্থালির কাজ-কর্ম করেন সেটাকে অর্থনীতির মূল স্র্রোতের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের অবদান জিডিপির হিসাবভুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ড. নাজনীন আহমেদ আরও বলেন, করোনার ফলে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি থমকে গেছে। এ থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি আলাদা কিছু নয়। এখানে নারীরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। নারী উদ্যোক্তারা এমনিতেই অবহেলিত এবং বঞ্চিত। ফলে করোনার প্রভাব অনেকেই পুঁজি হারাতে বসেছেন। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে। সারা দেশে মোট নারী শ্রমশক্তির মাত্র ৩৬ শতাংশ শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত। কর্মক্ষম বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমবাজার কিংবা চাকরির বাজারের বাইরে রয়েছেন। তাদের চাকরির বাজারে ঢোকার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নারীকে সহজ-শর্তে ঋণ দিতে হবে। নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে পারলে এর অবদান যুক্ত হবে  মূল ধারার অর্থনীতিতে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। একদিকে তাদের ঋণের কিস্তি অন্যদিকে কর্মীদের  বেতনভাতা পরিশোধ করতে গিয়ে এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার অনেকেই পুঁজি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সে প্যাকেজের আওতায় অনেকেই পড়বে না তাদের কথাও ভাবতে হবে। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর সর্বশেষ ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান দেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ, ছোট উদ্যোক্তা ৬৬ লাখ এবং মাঝারি উদ্যোক্তা ৭ লাখ। এতে মোট ৭৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা এ খাতে।  আর শুধুমাত্র ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানেই কর্মরত আছেন প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী। এর বাইরে কুটির, মাাঝারি, ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কারখানার মালিক, ব্যাকওয়ার্ডলিংকেজসহ এসব খাতে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। টানা দুই মাসের সাধারণ ছুটিতে এরা সবাই বেকার ছিলেন। এখন তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় তারা তাদের বিনিয়োগকৃত পুঁজি হারিয়ে পথে বসে যাবেন। যা দেশের বেকার সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করবে বলে তিনি মনে করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর