শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২০ ০০:০০

সংক্রমিত শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

আক্রান্ত ৬০ হাজারের বেশি মৃত্যু ছাড়াল ৮০০

বিশেষ প্রতিনিধি

সংক্রমিত শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। গতকাল ৯০তম দিনে এসে করোনাভাইরাস সংক্রমিত শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় ঢুকে যায় বাংলাদেশের নাম। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দেশে প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড ভাঙছে। জুন মাস শুরু হওয়ার পর একদিনও শনাক্তের সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নামেনি। একটানা চার দিন যাবৎ মৃতের সংখ্যা ৩০ কিংবা তার চেয়ে বেশি বলে জানানো হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৮২৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬০ হাজার ৩৯১ জন। একই সময়ে আরও ৩০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮১১ জন।

গতকাল করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। বুলেটিনে জানানো হয়, গত  ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৩০ জনের মধ্যে পুরুষ ২৩ জন এবং নারী সাত জন। এদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাত জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে দুজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রামে ১২, সিলেট বিভাগে তিনজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, বরিশাল বিভাগে একজন এবং রংপুর বিভাগে একজন। এরমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৭ জন, বাড়িতে মারা গেছেন ১৩ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে দ্রুত বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার। বাড়ছে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হারও। গত ২৪ ঘণ্টায় যত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, এর মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে একদিনে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৪ হাজার ৬৪৫টি। এরমধ্যে ৫০টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ৮৮টি নমুনা। পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক সাত শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৬৪৩ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৮০৪ জন। সারা দেশের কোথায় কোথায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন এবং নতুন রোগী শনাক্ত হলেন এবং তার সবশেষ খবর জানিয়েছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা- রাজশাহী : রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় একদিনেই ছয়জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন রাজশাহীর খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দুজন সিটি করপোরেশনের কর্মী। আর অন্য দুজন গত মঙ্গলবার করোনায় মারা যাওয়া বন কর্মকর্তার ছেলে এবং মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের ল্যাবে বৃহস্পতিবার মোট ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি নমুনা করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুজন করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৫৪। তিনি মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার সাত নম্বর রোডের অধিবাসী। পেশায় ব্যবসায়ী। এখানে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত আরেক ব্যক্তির বয়স ৫১। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের একজন অফিস তত্ত্বাবধায়ক। তার কর্মক্ষেত্র নওগাঁ জেলায়। তার বাড়ি নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায়। কয়েকদিন আগে তিনি নওগাঁ থেকে রাজশাহী এসে অসুস্থ হয়েছেন। তাই তাকে মিশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, নতুন শনাক্ত দুই ভাইবোন মহানগরীর কুমারপাড়া এলাকায় থাকেন। তাদের বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গত মঙ্গলবার। আক্রান্ত ছেলেটির বয়স ২৪। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তার বোনের বয়স ১৭। সেও আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত অপর দুজন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর্মী। একজনের বয়স ২০ এবং অন্যজনের বয়স ৪২। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুজনের পজিটিভ এসেছে। নতুন এই ছয়জন শনাক্ত হওয়ায় রাজশাহী মহানগর এলাকায় এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জন। আর রাজশাহী জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭২। এদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত ১৩ জন করোনা পজিটিভ রোগী সুস্থ হয়েছেন। বগুড়া : গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২ জনের করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ায় জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন ৫১৭ জন। বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে বর্তমানে করোনা পজেটিভ ৬৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইসোলেশন থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮ জন। অপরদিকে বাড়িতে থেকে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়েছেন ২০ জন এবং করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন দুজন। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে সর্বশেষ নমুনা পরীক্ষায় আরও ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার ৪২ জন। এ পর্যন্ত জেলায় সাত হাজার ৬৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৪৭টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৫১৭ জন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া শহরে সর্বোচ্চ ৩০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া শাজাহানপুরে ৩৪ জন, গাবতলীতে ৩৪, কাহালুতে ১৭, শেরপুরে ৩৮, শিবগঞ্জে ৯, আদমদীঘিতে ১২, সারিয়াকান্দিতে ২৩, সোনাতলায় ১১, দুপচাঁচিয়ায় ১৩, ধুনটে ১৪ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় আটজন আছেন। টাঙ্গাইল : জেলায় নতুন করে আরও ২৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে কালিহাতী উপজেলায় সাতজন, মির্জাপুরে পাঁচজন, ভূঞাপুরে দুজন, সদর উপজেলায় ছয়জন, গোপালপুরে একজন, সখীপুরে দুজন, দেলদুুয়ারে এক এবং নাগরপুর উপজেলায় চারজন রয়েছেন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে একজন চিকিৎসক, একজন নার্স, একজন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট এবং একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন। গতকাল  টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। ঠাকুরগাঁও : জেলায় নতুন করে আরও আটজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩০ জন। বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহফুজার রহমান সরকার আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন ছয়জন। এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার বাঁশগাড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা ফেরত ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর এবং রাণীশংকৈল উপজেলার ফরিদপাড়া এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী একজন নারী। ফেনী : ফেনীতে নতুন করে আরও ৩২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৫ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৩ জন। মারা গেছেন চারজন। জেলার সিভিল সার্জন ডা.  সাজ্জাদ হোসেন জানান, আক্রান্তদের মধ্যে দাগনভূঞার ১৯জন, ফেনী সদরে ১১জন, সোনাগাজীতে একজন ও ফুলগাজীর একজন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৮জন পুরুষ ও ১৪জন নারী। ফেনী স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ক ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, এ পর্যন্ত ২৫৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৬৩জন সুস্থ হয়েছেন। গাজীপুর : জেলায় নতুন করে করোনাভাইরাসে ৪১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট এক হাজার ৫৩১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জানা গেছে, জেলার গাজীপুর সদর উপজেলায় ১৮জন, কালিয়াকৈরে সাতজন, কালীগঞ্জে চারজন, কাপাসিয়া উপজেলায় ১২ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে গাজীপুর সদরে ৯৭৪ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় ১৭০ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৫৫ জন, কাপাসিয়া উপজেলায় ১১৪ জন এবং শ্রীপুরে ১১৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেলে এক স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২৪ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। এরমধ্যে ময়মনসিংহ সদরের ২০ জন, ভালুকা উপজেলায় তিনজন ও নান্দাইলে একজন রয়েছেন। এ নিয়ে ময়মনসিংহ জেলায় ৬০২ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনসহ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯৪ জন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর