শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৯

চলে গেলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলে গেলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ

দেশের আর্থিক খাতের বিবেক বলে পরিচিত বিশিষ্ট ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। চলতি মাসের শুরুতে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে করোনামুক্ত হলেও বার্ধক্যজনিত আরও সমস্যা ধরা পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিএসএমএমইউতে রবিবার তাকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলছিল। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবনে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের প্রথম জানাজা ও বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুই জানাজায় সংস্কৃতি অঙ্গন, বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। এরপর তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে ব্যাংকপাড়ায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ এশা শহরের কোর্ট মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জানাজা। জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছাড়াও আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিপুল সংখ্যক শুভানুধ্যায়ী অংশ নেন। পরে ব্যাংকপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়। ৮০ বছর বয়সী ইব্রাহিম খালেদ ১৯৪১ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোলে ¯œাতকোত্তর করার পর তিনি আইবিএ থেকে এমবিএ করেন। ১৯৬৩ সালে যোগ দেন ব্যাংকিং পেশায়। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন তিনি। এ ছাড়া কর্মজীবনের বিভিন্ন সময় তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও বেসরকারি পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। চাকরি থেকে অবসরের পর কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় ২০১০ সালে শেয়ারবাজারের পতনের কারণ অনুসন্ধানে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। আমৃত্যু তিনি শিশু-কিশোরদের সংগঠন কচিকাঁচার মেলার পরিচালক ছিলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। ২০১১ সালে বাংলা একাডেমি ইব্রাহিম খালেদকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দেয়। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর। ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক শোকবার্তায় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। রাষ্ট্রপতি তাঁর শোকবার্তায় বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সুষ্ঠু বিকাশে  খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যে মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তা এ দেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ এ ছাড়া খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ।

 বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী সভাপতি সাব্বাহ আলী খান কলিন্স এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)।


আপনার মন্তব্য