শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ মার্চ, ২০২১ ২৩:২৮

বিশ্বে ১২ ধরনের ভ্যাকসিন নিয়েছে ২৪ কোটি মানুষ

মানবদেহে ট্রায়াল চলছে ৭১ ভ্যাকসিনের, ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে ২০ ভ্যাকসিন, পরীক্ষাগারে গবেষণায় আরও ৭৮ ভ্যাকসিন

জুলকার নাইন

বিশ্বে ১২ ধরনের ভ্যাকসিন নিয়েছে ২৪ কোটি মানুষ

করোনাভাইরাস মহামারী প্রতিরোধের জন্য বিশ্বে বর্তমানে ৭১টি ভ্যাকসিনের মানবদেহে ট্রায়াল চলছে। এর মধ্যে ২০টি ইতিমধ্যেই ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর বাইরে ভ্যাকসিন প্রি-ক্লিনিক্যাল স্তরে থাকা ৭৮টি এখনো পশুপাখির শরীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বিশ্বে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এখন ১২টি ভ্যাকসিন নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্বে কমপক্ষে ২৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষের ওপর প্রয়োগ হয়েছে এসব ভ্যাকসিন। এর মধ্যে ৫ কোটি ৩৫ লাখ মানুষকে পূর্ণাঙ্গ ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের ভ্যাকসিন ট্রাকারের তথ্যানুসারে ব্যবহার হওয়া ভ্যাকসিনের মধ্যে ছয়টি অনুমোদিত হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দুটি ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাকি চারটি বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা, দেশ বা সরকার তাদের জনগণের ওপর প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এ ভ্যাকসিনগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি ফাইজার বায়োএনটেক, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না, চীনের সিনোভ্যাক, রাশিয়ার স্পুটনিক ফাইভ, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও জনসন অ্যান্ড জনসন। বাংলাদেশে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাকিগুলোর জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োগ হচ্ছে। ভ্যাকসিন ট্রাকারের তথ্যানুসারে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি ফাইজার বায়োএনটেক ভ্যাকসিনটি জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, হংকং, আইসল্যান্ড, ইরাক, ইসরাইল, জাপান, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, নরওয়ে, ওমান, পানামা, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, সার্বিয়া, সিঙ্গাপুর, তিউনিসিয়া, আরব আমিরাত। অবশ্য ইতিমধ্যে পুরোপুরি অনুমোদন দিয়েছে সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, নিউজিল্যান্ড, সৌদি আরব ও বাহরাইন। যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার ভ্যাকসিনটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, আইসল্যান্ড, ইসরাইল, মঙ্গোলিয়া, নরওয়ে, কাতার ও সিঙ্গাপুর। পুরোপুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে সুইজারল্যান্ডে। এ ভ্যাকসিন পেতে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়া। রাশিয়ার গ্যামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের স্পুটনিক ফাইভ ভ্যাকসিন শুরুতেই অনুমোদন দিয়ে প্রয়োগ শুরু করে রাশিয়া। এরপর এ ভ্যাকসিনটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, বাহরাইন, বেলারুশ, বলিভিয়া, বসনিয়া, মিসর, হন্ডুরাস, গ্যাবন, ঘানা, গুয়েতেমালা, গিনি, গুয়েনা, হাঙ্গেরি, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লেবানন, মেক্সিকো, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, মিয়ানমার, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, প্যারাগুয়ে, সানমেরিনো, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রেনাডিস, সার্বিয়া, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, তুর্কমেনিস্তান, আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান, ভেনেজুয়েলা। রাশিয়ার চমাকভ সেন্টার ও রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সের উদ্ভাবিত আরও একটি ভ্যাকসিন রাশিয়ায় ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার ভেক্টর ইনস্টিটিউটের ইপিভ্যাকরোনা প্রাথমিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ডমিনিক রিপাবলিক, মিসর, এল সালভেদর, আইসল্যান্ড, ভারত, ইরাক, কুয়েত, মালদ্বীপ, মেক্সিকো, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, নেপাল, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সিসিলি, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার স্পুটনিক ফাইভের সঙ্গে যৌথ ট্রায়াল শুরু করেছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা। শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়েও ট্রায়াল চালাচ্ছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা। চীনা কোম্পানি ক্যানসিনো বায়োলজিকস ও একাডেমি অব মিলিটারি মেডিক্যাল সায়েন্সের যৌভভাবে উদ্ভাভিত কোনভিডেসিয়া ইতিমধ্যে চীনে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মেক্সিকো ও পাকিস্তানে। চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সিনোফার্মা বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে বাহরাইন, চীন ও আরব আমিরাত। জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, মিসর, গুয়েনা, হাঙ্গেরি, ইরাক, জর্ডান, নেপাল, পাকিস্তান ও পেরু। নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে সার্বিয়া ও সিসিলিস। চীনের অন্য কোম্পানি সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিন ইতিমধ্যে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে চীন। জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে আজারবাইজান, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উরুগুয়ে। চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের আরেকটি ভ্যাকসিন চীনে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এটির নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে আরব আমিরাত। জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিন ইতিমধ্যে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন। ভারত বায়োটেক, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির আবিষ্কার কোভ্যাক্সিনের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে প্রয়োগ করছে ভারত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কয়েক দিন আগেই ঘোষণা দিয়েছে কোনো ভ্যাকসিন মানবদেহে যদি ৫০ শতাংশের বেশি কার্যকর হয় তবে তা অনুমোদন পাওয়ার যোগ্য। একটি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বলতে বোঝায় ভ্যাকসিনটি মানবদেহকে কতটা সুরক্ষা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতে মানবদেহে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কয়েকটি স্তরে সুরক্ষা দেয়; বিশেষ করে টিকা দেওয়ার পর মানবদেহে টি-লিম্ফোসাইট ও বি-লিম্ফোসাইট বাড়াতে সাহায্য করে। লিম্ফোসাইটের কাজ হলো শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি আর এ অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসের জীবাণুর সঙ্গে লড়তে মানবদেহকে ঢাল হিসেবে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে প্রতিটি মেডিসিনের কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটেও করোনা ভ্যাকসিনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, যা খুবই সামান্য। সংখ্যার বিচারে যা প্রতি ১০ জনের একজন বলে প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো শরীরের যে স্থানে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় সে স্থান একটু ফুলে যাওয়া বা লাল হওয়া বা সামান্য ব্যথা অনুভূত হওয়া, মাংসপেশি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অথবা জ্বর আসা, মাথাব্যথা বা শীতল অনুভূতি। শরীরে ভ্যাকসিন কার্যকর হতে মোটামুটি এক সপ্তাহ লাগে।

এই বিভাগের আরও খবর