শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩১

দলীয় আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা

মহামারীর নতুন ধাক্কা সামলাতে প্রস্তুত থাকতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারীর নতুন ধাক্কা সামলাতে প্রস্তুত থাকতে হবে

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আবার দেখা গেছে। ভাইরাসটা এবার ভিন্নভাবে এসেছে। এ প্রাদুর্ভাব কতদূর যাবে, এখনো আমরা তা জানি না। মহামারীর এই নতুন ধাক্কা সামলাতে আমাদের প্রস্তুতি থাকতে হবে।

গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ সভায় যুক্ত হন। আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে মানুষের জন্য খাদ্য বিতরণ, মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ ও নানা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে  দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় অনুষ্ঠান সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। পাশাপাশি গেল বছর মানুষের পাশে যেমন দাঁড়িয়েছেন, তেমনি সামনেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষ যেন কষ্টে না থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যা করার করব। কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেও মানুষের পাশে থাকতে হবে। যে দল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের ওপর অনেক দায়িত্ব।

ভ্যাকসিন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়া অব্যাহত থাকবে। তবে কেউ যাতে মাস্ক ছাড়া বাইরে না যায়। নিরাপদ দূরত্ব মেনে বসতে হবে। সভা-সেমিনার-কর্মশালা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে করতে হবে। যতদূর সম্ভব খোলা জায়গায় কর্মসূচি করতে হবে। ঘরের মধ্যে করলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরও বেশি দেখা দেয়। আমাদের দেশের মানুষ খাদ্যে কষ্ট না পায়, আবার দেশের মানুষ যেন সুস্থ থাকতে পারে এবং প্রয়োজনে আমরা যেন অপরকে সাহায্য করতে পারি। সেভাবে আমাদের চলতে হবে। সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।  ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল খুলতে চেয়েছিলাম। এখন আবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় আমরা ঠিক এখন না খুলে ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেব। আর এই ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব মেরামত লাগবে সে কাজগুলো সরকার করে দেবে। তিনি বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আবার দেখা গেছে এবং এই ভাইরাসটাও আবার ভিন্নভাবে এসেছে, তাই আমাদের ঠিক আগের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ এই প্রাদুর্ভাব কতদিন থাকবে আমরা এখনো জানি না। পাশাপাশি  দেশের উন্নয়নের কাজগুলো চলতে থাকবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সে প্রচেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পরিচালিত হওয়ায় আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে থেমে থাকলে চলবে না, যেতে হবে অনেক দূর। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে, তারপরও বাংলাদেশ থেমে থাকবে না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষে এটিই আমাদের প্রতিজ্ঞা। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে আমরা পৌঁছে দেব এবং সেটা দেওয়ার মতো দক্ষতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। আর তা অর্জন করেছে বলেই আজকে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের জনগণকে সম্মানিত করেছে আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে। যে আদর্শের ভিত্তিতে আজকে উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান রয়েছে, সেই আদর্শ ধারণ করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তর সালের পাক হানাদার বাহিনীর মতোই ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের মানুষের ওপর একই কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে, হত্যা করেছে, মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে। দেশের মানুষ এ কথা ভুলে যায়নি। তিনি বলেন, ’৭৫-পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর দেশের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, দেশকে উল্টো পথে চালিত করা হয়েছে, মাতৃভাষা থেকে শুরু করে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর নানা কর্মসূচি নিয়েছিলাম। তারপরও চক্রান্ত থামেনি। ২০০১ সালে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু ফল তো ভালো হয়নি। বিএনপি-জামায়াতের আমলে পাঁচবার দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই সৃষ্টি, লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচারসহ নানা খাতে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। 

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা, বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। আমরা সেই ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু তাঁর সংবিধান ও আইনে যে মৌলিক নির্দেশনা রেখে গেছেন, আমরা সে আলোকেই পথ চলছি। তাঁর সব কাজ পূর্ণ করছি। তিনি বলেন, গত ১২ বছরে বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছি। এটা নতুন কিছু না, কোনো ম্যাজিকও না। জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করেই এসব অর্জন। এ দেশের মানুষ জাতির পিতা নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ করে। ৭ মার্চের ভাষণে যা যা করতে বলেছেন, মানুষ তা-ই করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা দিয়েছেন। এটা আমাদের সম্মানের, এটাই আমাদের সার্থকতা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পাঁচ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এসেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ২৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে শুভেচ্ছা বার্তা আমরা পেয়েছি। ২৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রাইম মিনিস্টার ইমরান খান, তিনিও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। অর্থাৎ পৃথিবীর মনে হয় কোনো অঞ্চলে কেউ বাদ নেই বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা বার্তা দিতে। এটাই হচ্ছে সার্থকতা। এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি বলেন, সময়ের অভাবে সব বার্তা শোনাতে পারিনি। সব বার্তা রক্ষিত আছে। তৃণমূল পর্যন্ত প্রচার করতে হবে। তাদের শুভেচ্ছা বার্তা যেন জনসাধারণ জানতে পারে। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে এগুলো প্রচারে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের দিয়েছিলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আজকে যেভাবে শুভেচ্ছা বার্তাগুলো এসেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শের, সেই নীতি, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, এটা তারই প্রতিফলন ঘটেছে।  তিনি বলেন, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। কোনো জলাশয় যেন অনাবাদি না থাকে। খাদ্য উৎপাদন করে নিজেদের প্রস্তুতি রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যায় বলা যায় না, যাতে অন্তত খাদ্য সংকট না হয়। আমরা নিজেদের খাদ্য নিজেরাই জোগান নিশ্চিত করে অন্যকেও দেব। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ পাবে। অর্থাৎ আমার গ্রাম আমার শহর-এই শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রামের মানুষ পাবে। এরই মধ্যে রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ, ব্যাপকভাবে করছি। তাছাড়া আমরা বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট করছি। এগুলো যখন সম্পন্ন হবে, আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, আরও মজবুত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। গণভবন প্রান্তে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রান্তে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মেরিনা জাহান কবিতা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি ও হুমায়ুন কবির।