শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ জুন, ২০২১ ০০:১৯

প্রবৃদ্ধি ৭.২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ৫.৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য উত্থাপিত ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে। অন্যদিকে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে রাখার লক্ষ্য ঠিক করে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করেন।

করোনাভাইরাস মহামারী হানা দেওয়ার পরও গত বছর বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরেছিল সরকার। তা অর্জিত না হওয়ায় মহামারীর বাস্তবতায় এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সার্বিক অর্থনীতিতে মহামারীর প্রভাবে গতবারের তুলনায় এবার টার্গেট কমিয়ে আনা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধন এবং প্রাজ্ঞ রাজস্বনীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিগত এক দশকে বাংলাদেশের উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন কভিড মহামারীর প্রভাবে সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

 ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে তা হ্রাস পেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা ছিল এশিয়ার মধ্যে সবার ওপরে। কভিড-পরবর্তী উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মহামারীর প্রভাব দীর্ঘতর হওয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ এবং পুনরায় লকডাউন ঘোষণার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে শ্লথ অবস্থা বিরাজমান। রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত গতি ফিরে আসেনি। আশার কথা, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক উভয়েই বাংলাদেশের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে বেঁধে ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশে উঠেছে। এবার এ সূচক ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার আশা করা হচ্ছে।