শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩৮

দুই ডজন আইন ও বিধি সংস্কার চায় পুলিশ

আলাউদ্দিন আরিফ

দুই ডজন আইন ও বিধি সংস্কার চায় পুলিশ
Google News

সীমাবদ্ধতা দূর করতে কমপক্ষে দুই ডজন আইন ও বিধি, সংস্কার এবং যুগোপযোগী করতে চায় বাংলাদেশ পুলিশ। শত বছরের পুরনো পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গলকে (পিআরবি) যুগোপযোগী করা, পাসপোর্ট ও ট্রাভেল ডকুমেন্ট-সংক্রান্ত নতুন আইন বা বাংলাদেশ পাসপোর্ট আইন, ২০১৯; র‌্যাবের জন্য নতুন একটি পৃথক আইন করা, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য একক আইন ও পুলিশ অফিসার্স (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৯-ও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস প্রস্তাবিত, খসড়া আইন ও আইনের সংস্কার হলে পুলিশি সেবার মান আরও বাড়বে। পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

জানা গেছে, পুলিশ সদর দফতর এখন ২৫টি আইন প্রণয়ন, সংস্কার ও যুগোপযোগী করার কাজ করছে। ইতিমধ্যে এসব আইন ও সংশোধনীর খসড়া তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেগুলোর কয়েকটি আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠিয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর যেসব আইনের সংস্কার ও সংশোধনী নিয়ে কাজ করছে সেগুলো হচ্ছে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিধিমালার সংস্কার করে পিবিআইর ক্ষমতা বাড়ানো; বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় মেধাতালিকা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পদোন্নতি দেওয়ার লক্ষ্যে আমর্ড পুলিশ বিধিমালা, ১৯৯১ এর বিভিন্ন বিধি সংশোধন করা; পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) এবং পুলিশ সার্জেন্ট নিয়োগ পদ্ধতি যুগোপযোগী করার জন্য পিআরবি ১৯৪৩ সালের প্রবিধান সংশোধন করা; ট্রেইনি রিক্রুটিং কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পদ্ধতি সংক্রান্ত বিভিন্ন সংশোধনী; এসআই পদমর্যাদার পুলিশ অফিসারদের গুরুদন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ নেওয়া থেকে অব্যাহিত দেওয়া; বিরক্তিকর প্রাঙ্ক অথবা ক্রাঙ্ক কল প্রতিরোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০২১ এর ৭০ ধারায় বর্ণিত অপরাধের বিচারিক ক্ষমতা মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯-এর তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা।’

আরও রয়েছে ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮-এর সংশোধনীতে বিচারিক ক্ষমতাসহ পুলিশের অন্তর্ভুক্তি, পুলিশ স্টাফ কলেজ আইন ২০০২-এর বেশ কিছু ধারা সংশোধন করা; পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার টেলিকম টেকনিশিয়ান (অপারেশন-মেইনটেন্যান্স), পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার সহকারী টেলিকম টেকনিশিয়ান (অপারেশন-মেইনটেন্যান্স) এবং পুলিশের কনস্টেবল পদমর্যাদার রেডিও অপারেটর, রেডিও মেকানিক-মাস্ট মেকানিক পদের জন্য পৃথক নিয়োগ বিধিমালা তৈরি করা; সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৪০(২) ধারা সংশোধন করে দ্য এন্টি টেররিজম রুলস ২০১৩ এর কিছু ধারা বিলুপ্ত করা; নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩-এর সংশোধন করা, পুলিশ অধ্যাদেশ, ২০০৭ (খসড়া) বাস্তবায়ন করা।’ পুলিশ অধ্যাদেশটি পরবর্তীতে পরিবর্তন করে বাংলাদেশ পুলিশ আইন ২০১৩ নাম দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘২৫টির মতো আইন ও বিধির সংস্কার নিয়ে আমরা কাজ করছি। এসব প্রস্তাবিত আইন, সংশোধনী ও যুগোপযোগী করার প্রস্তাবের অনেকগুলোই স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। দ্রুত এগুলো সুরাহা হলে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে। কাজের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর হবে।’

র‌্যাবের জন্য একটি পৃথক আইন করার বিষয়ে কর্মকর্তারা বলেন, ‘র‌্যাব পরিচালিত হচ্ছে আর্মড ফোর্সেস বিধিমালা অনুযায়ী। কিন্তু ওই আইনে র‌্যাবের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব জটিলতা নিরসনে র‌্যাবের জন্য একটি পৃথক আইন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পুলিশ সদর দফতরের পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখা র‌্যাবের জন্য একটি খসড়া আইন তৈরির বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।’

বিভিন্ন আইন ও বিধির সংস্কার সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হায়দার আলী খান বলেন, ‘আইনগুলোর সংস্কার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে। পুলিশ যেহেতু আইনি কাঠামোর দ্বারা পরিচালিত হয় সেক্ষেত্রে পুরনো আইন যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রযুক্তির উন্নয়নে অপরাধের ধরনে পরির্বতন এসেছে। তাই পুরনো আইনগুলোকে সংস্কার ও কিছু ক্ষেত্রে নতুন আইন করা হচ্ছে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।’

এসব আইনের বিষয়ে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, আইনের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর প্রায় সবই পুলিশ বাহিনীর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও সেবার মান বৃদ্ধি সংক্রান্ত। এর আগেও পিআরবি যুগোপযোগী করতে কিছু ধারা ও বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। এটা একটা চলমান পক্রিয়া।’ সাবেক এই আইজিপি আরও বলেন, ‘পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭ ছিল পুলিশ বাহিনীকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তালমিলিয়ে আধুনিক পুলিশ বাহিনী করার একটি উদ্যোগ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনটি কেন আটকে রেখেছে সেটা আমার জানা নেই।’ শহীদুল হক আরও বলেন, ‘সব মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য একক আইন হওয়া একটি ভালো দিক। নতুন আইন হলেও কার্যক্রম একই থাকবে।’