শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

অবশেষে পরীক্ষার ঘোষণা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না, শুধু তিন সাবজেক্টে এসএসসি নভেম্বরে, এইচএসসি ডিসেম্বরে, বাংলা ইংরেজি গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয় দিতে হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে পরীক্ষার ঘোষণা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত না হলেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সীমিত পরিসরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের মাধ্যমে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি ও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে সে ক্ষেত্রেও আবশ্যিক বিষয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, আইসিটি ও ধর্ম পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়গুলোর সীমিত পরিসরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আবশ্যিক এসব বিষয়ে পরীক্ষা না নেওয়ার মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হচ্ছে, এসব বিষয় প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করেছে। এ বিষয়গুলো জেএসসি, জেডিসি,                এসএসসি পরীক্ষায় মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই এগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সীমিত পরিসরে, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও পরীক্ষার সময় কমিয়ে আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। যদি সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী জেএসসি-জেডিসি-এসএসসির ফলাফল এবং অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা সব বিষয়ে না নিয়ে কেবল গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে নেওয়া হবে। অর্থাৎ বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক এ তিনটি গ্রুপের শিক্ষার্থীরা যার যার গ্রুপের বিশেষায়িত তিনটি করে সাবজেক্টের ওপর সীমিত পরিসরে, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দেবে। পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টের জন্য শুধু গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক বিষয়। যেমন বিজ্ঞান গ্রুপের ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যা, রয়াসন, জীববিজ্ঞান বা উচ্চতর গণিত বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো মূল্যায়নের প্রয়োজন থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট ওই কয়েকটি বিষয়ের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের ধরন ও পরীক্ষার সময় বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় হবে অর্ধেক। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টার। আর প্রশ্নপত্র এখন যেমন বহুনির্বাচনী ও রচনামূলক হয়, সে রকমই হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন বাছাইয়ের বেশি সুযোগ পাবে। আগে যেখানে ১০টি প্রশ্নের মধ্য থেকে আটটির উত্তর দিতে বলা হতো, সেখানে এখন হয়তো সেই ১০টি প্রশ্নই থাকবে। তবে এর মধ্যে তিনটি বা চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হবে। আর প্রতি বিষয়ে মোট নম্বর ১০০-এর বদলে ৫০ করা হবে। এ ৫০ নম্বরকে ১০০-তে রূপান্তর করে পরীক্ষার ফল দেওয়া হবে।

সীমিত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের জন্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে যথাক্রমে ৬০ ও ৮৪ দিনে শ্রেণি কার্যক্রম শেষ করে পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে এসএসসি ও সমমানের অ্যাসাইনমেন্ট ১৮ জুলাই দেওয়া শুরু হবে। ১২ সপ্তাহে মোট ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে মোট ২৪টি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবে শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে মোট আটটি করে অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। এর মাধ্যমেই সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা হবে। আর এইচএসসি ও সমমানের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া শুরু হবে ২৬ জুলাই। শিক্ষার্থীদের ১৫ সপ্তাহে মোট ৩০টি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। তাদেরও গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে মোট ছয়টি পত্রে (প্রথম ও দ্বিতীয়) অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। প্রতি পত্রে পাঁচটি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। সপ্তাহে দুটি করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। উভয় স্তরের শিক্ষার্থীদেরই বাংলা, ইংরেজিসহ আবশ্যিক বিষয়ে এবং চতুর্থ (অপশনাল) বিষয়ে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে না। আবশ্যিক বিষয়ের নম্বর জেএসসি, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করে নম্বর নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে অ্যাসাইনমেন্ট ও ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করে অথবা শুধু ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করে মূল্যায়ন করা হতে পারে। অর্থাৎ অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতেই মূলত শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। পরে যোগাযোগ করা হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আবশ্যিক বিষয়গুলোয় পরীক্ষার আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। তা ছাড়া এসব বিষয় অন্য ক্লাসগুলোয় পড়েছে তারা। তাই পরীক্ষার ক্ষেত্রে এসব বিষয় বাদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসির পরীক্ষার্থীদের আবশ্যিক বিষয়গুলোর অ্যাসাইনমেন্টও করতে হবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিস্থিতি নেই : সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, এখন শিক্ষার সংকট বিশ্বব্যাপী। ইউনিসেফ-ইউনেসকো বলেছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে, শিক্ষার সংকট বিপর্যয়কর হতে পারে। তারা আরও বলেছে স্কুল খুলে দিলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সবকিছু বিবেচনায় খুলে দেওয়া দরকার। কিন্তু দেশে এখন সংক্রমণের যে হার এবং এখন মৃত্যুর সংখ্যাও যা তাতে এ মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এখন করোনার ডেল্টা ধরনের পর অনেক শিশুও আক্রান্ত হচ্ছে। এও বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা তখনই খুলে দিতে পারব যখন মনে করব এখন আশঙ্কা অনেক কম। সংক্রমণের হার কিছুটা কমে গেলে হয়তো প্রস্তুতি নিয়ে খুলতে পারব। ব্রিফিংয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর