বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
করোনাভাইরাস

বিমানবন্দরে টেস্টে টানাপোড়েন

♦ র‌্যাপিড পিসিআরের পরিবর্তে আরটি-পিসিআর ♦ আরব আমিরাতের শর্তপূরণ নিয়ে শঙ্কা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। শেষও হচ্ছে না প্রতিশ্রুতির এক সপ্তাহ। চলছে টানাপোড়েনও। আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্ট করার কথা বলা হলেও আপাতত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরটি-পিসিআর মেশিন বসানো হচ্ছে। এটিও কবে নাগাদ শুরু হবে তা বলতে পারছে না কেউ। আবার র‌্যাপিড পিসিআরের পরিবর্তে আরটি-পিসিআর টেস্টে শর্তপূরণ হবে কি না বা প্রবাসীদের অনিশ্চয়তা কাটবে কি না তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। বিমানবন্দরে করোনা টেস্টের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য গতকাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের শর্ত, যাত্রার ছয় ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদ নিতে হবে। পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগার লাগবে, সেই পরীক্ষাগার বসাতে জায়গা লাগবে। দ্রুত এ কাজ শুরুর জন্য বিমানবন্দরের ভিতরে একটি জায়গা দেওয়া হয়েছে। ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তারা আপাতত ছোট আকারে সেখানে পরীক্ষাগার বসাবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের ছাদে স্টিলের কাঠামো করে পরে করোনার আরেকটি পরীক্ষাগার বসানো হবে। মজবুত সেই জায়গা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত থাকবে, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকবে। এটা করতে তো একটু সময় লাগবে। কবে নাগাদ চালু হবে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে কাজ ছিল, তা মন্ত্রণালয় থেকে করা হয়েছে। আমরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে দিয়ে দিয়েছি। আমরা যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করেছিলাম, সে কয়টি তারা নির্বাচিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এসবের জবাব না দিলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। কবে নাগাদ বিমানবন্দরে করোনার পরীক্ষাগার বসবে, তা জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিমানবন্দরে পার্কিংয়ের ছাদ তৈরি করতে ১০ দিন লাগবে। ভিতরে যে জায়গা আছে, তা তৈরি আছে। দু-তিন দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। যারা কাজ করবে বলেছে, যদি এখন তারা বলে যন্ত্র নেই, আমদানি করতে হবে, তাহলে আমি বলব বাড়িতে যাও। ইমরান আহমদ আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত চেয়েছে বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার বসাতে। আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে সময় বেশি লাগে। তবে র‌্যাপিড পিসিআর করতে সময় কম লাগে। এদিকে র‌্যাপিড পরীক্ষার যন্ত্র দেশে নেই। করোনার পরীক্ষাগার কবে চালু হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এটা তো এক সপ্তাহ আগে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ইনভলভমেন্ট একটা সমস্যা। তিন দিনের মধ্যে বিমানবন্দরের করোনা পরীক্ষাগার চালু হবে বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর আশা। তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব হলো প্রবাসীদের যাওয়াটা সহজ করে দেওয়া। এ প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের। আজকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, এত দিন আমরা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বহুতল কার পার্কিংয়ের ছাদে করানোর পরীক্ষাগার বসবে। এখন আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে বিমানবন্দরের ভিতরে পরীক্ষাগার বসানো হবে। করোনার পরীক্ষাগার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষকে এসওপি আবার দিতে হবে কি না আমি নিশ্চিত নই। আবার বিমানবন্দরের ভিতরের জায়গাটা ছোট। অনেকেই হয়তোবা যেতে পারবেন না। কারণ, ভিতরে সক্ষমতা কম। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষকে হয়তো আমরা জানিয়ে দেব, ৩০০-এর বেশি লোক আমরা পরীক্ষা করতে পারছি না। পরীক্ষাগার বসানো হলে আমরা বুঝতে পারব কয়টা বুথ বসিয়ে কতজনকে একসঙ্গে পরীক্ষা করা যাবে। তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ যাত্রী বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে থাকেন। এখন যাত্রার ছয় ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে করোনার পরীক্ষা করা যাচ্ছে না বলে বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রবাসী সে দেশে যেতে পারছেন না।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর