রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

জেলায় জেলায় বিদ্রোহী, উভয় সংকটে আওয়ামী লীগ

রফিকুল ইসলাম রনি

জেলায় জেলায় বিদ্রোহী, উভয় সংকটে আওয়ামী লীগ

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে উভয় সংকটে আছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি বা অন্য বড় দলগুলোর নেতারা মাঠে না থাকলেও দলের সমর্থন না পেয়ে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে ২২ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এ অবস্থায় দলীয় বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেওয়া হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের সংখ্যা বেড়ে যাবে। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার প্রকাশ্যে বিদ্রোহীদের ছাড়ের ঘোষণা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা। নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চায় আওয়ামী লীগ। সে কারণে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্রমতে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার প্রবীণ নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অনেক নেতার পক্ষে সব ভোটারের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে দলীয় এমপিরা যে প্রচার-প্রচারণায় নামবেন তাও পারছেন না। কারণ বিদ্যমান আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের কোনো এমপি বা মন্ত্রী নিজ এলাকায় গিয়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা বা নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে পারবেন না। শুধু মন্ত্রী-এমপিই নয়, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, হুইপ, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তিই নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে পারবেন না। শুধু নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণই নয়, তাদের ব্যবহৃত কোনো সরকারি যানবাহন বা অন্য কোনো বস্তুও প্রার্থীর কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তবে ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন (যদি তিনি ভোটার হন)। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক করতে আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত ‘বিদ্রোহী প্রার্থীদের’ ব্যাপারে নমনীয় থাকবে-এমন প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া দু-একটি জেলায় আগের বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন। অন্যদিকে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারাও মনোনয়নের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি নির্বাচন উন্মুক্ত রাখতেও বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির চালাচ্ছেন। তাদের অনেকেই আবার শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দেখা যাক কী হয়। দলের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে কোনো নির্দেশনা পেলে আমরা জানাব। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ঘর গোছানোর কাজ শুরু করেছে। নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় সমর্থন না পেয়ে যারা বিদ্রোহী হয়েছেন তারাও অনেকে দলের প্রবীণ নেতা। এখন তাদের বহিষ্কার করা হলে সংসদ নির্বাচনে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন। কারণ এদেরও বড় একটি সমর্থক রয়েছে দলের ভিতর। তাই জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আপাতত হার্ডলাইনে যাওয়ার চিন্তা কম দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতাদের। আবার বিদ্রোহীদের মাঠে থাকার ওপেন ঘোষণাও দিতে পারছে না। এ নিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

প্রচারণায় নামতে পারবেন না এমপি-মন্ত্রী :  নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, জেলায় জেলায় নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে নির্বাচন কমিশন। কোনো জেলায় যাতে স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী বা প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি ভূমিকা না রাখতে পারে সে ব্যপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছে কমিশন।

জেলা পরিষদ আইন, [২০০০ (২০০০ সালের ১৯ নম্বর আইন)-এর ধারা ২০(২)] বলা হয়েছে ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নির্বাচনী প্রচারণা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাধা নিষেধ : ১. সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার হইলে তিনি কেবল তাহার ভোট প্রদানের জন্য ভোট কেন্দ্রে যাইতে পারিবেন। ২. নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, সরকারি যানবাহন, অন্য কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণকে ব্যবহার করিতে পারিবেন না। এখানে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলতে প্রজ্ঞাপনের ১ নম্বর ধারার ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অর্থ প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাহাদের সমমর্যাদার কোন ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র’।

আগামী মাসের ১৭ তারিখ একযোগে দেশের ৬১টি জেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইতোমধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ২২ জেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জয়ের পথে। সে হিসেবে বাকি ৩৯টি জেলায় ১৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

সর্বশেষ খবর