শিরোনাম
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

জনসভা রূপ নিল উত্তাল জনসমুদ্রে

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট থেকে কদমতলী হয়ে জনসভাস্থল পলোগ্রাউন্ড পর্যন্ত সর্বত্র লোকে লোকারণ্য। চারদিকে কেবল মানুষ আর মানুষ। নেই কোনো যানবাহন। অভিন্ন চিত্র পলোগ্রাউন্ডের আশপাশ এবং সবগুলো সড়কের। গতকাল চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার রূপ ছিল একরকম উত্তাল জনসমুদ্রের। প্রধানমন্ত্রী বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলেও দুপুরের আগেই জনসভাস্থল ছাপিয়ে গোটা মহানগর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কেবল নগর নয়, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা থেকেও জনসভায় যোগ দেন নেতা-কর্মীরা। পুরো নগরই হয়ে ওঠে রঙিন। সর্বত্র শোভা পায় রঙিন পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন। মিছিলকারীদের গায়ে নানা রঙের টি-শার্ট। মাথায় নৌকাখচিত ক্যাপ। চন্দনাইশ থেকে আসা আওয়ামী লীগ কর্মী হাছান মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন বলেন, সকালে আমরা গাড়ির বহর নিয়ে উপজেলা থেকে পলোগ্রাউন্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। মূল মাঠে স্থান পাওয়ার আশায় আগে এসেও ঢুকতে পারিনি। ঠাঁই হয়েছে মাঠের শেষ প্রান্তে।

চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতাদের স্মরণ : প্রধানমন্ত্রী পলোগ্রাউন্ড মাঠে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় বক্তব্য রাখেন। দেশ, জাতি, জাতীয় রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়নসহ নানা প্রসঙ্গে তিনি বক্তব্য রাখেন। কিন্তু এত বিষয় ও অনুষঙ্গের মধ্যেও চট্টগ্রামের বরেণ্য ও ত্যাগী নেতাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে তিনি ভোলেননি। নাম ধরে ধরে সবার কথাই তিনি স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের প্রয়াত নেতা এম এ আজিজ, এম এ হান্নান, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেন।

এলইডি টিভিতে মঞ্চ দেখার শখ পূরণ : আওয়ামী লীগের মূল জনসভাটি হয় পলোগ্রাউন্ড মাঠে। কিন্তু মাঠে অত মানুষের সংকুলান হওয়ার সুযোগ নেই। তাই আয়োজক কর্তৃপক্ষ মাঠের আশপাশে এলইডি টিভির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করেন। নগরের সিআরবি মুক্ত মঞ্চসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে এলইডি টিভি। তাই অনেক দর্শক-শ্রোতা এলইডি টিভিতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেন। এর মাধ্যমে সরাসরি মঞ্চের সামনে বসে বক্তব্য শোনার শখই পূরণ করেন তারা।

জয়নুল আবেদিন নামে এক দর্শক বলেন, ভিড়ের কারণে জনসভার মূল মাঠে প্রবেশ করতে পারিনি। তাই এখানে বসে এলইডি টিভির মাধ্যমে বক্তব্য শুনছি। এলইডি টিভিতে মঞ্চ দেখে সরাসরি শোনার শখ পূরণ করেছি।

দ্বীপ থেকে দেখতে আসলেন শেখের কন্যাকে : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার ৬০ বছরের মো. জাহাঙ্গীর আলম এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দিতে। শারীরিক দুর্বলতা আর ট্রলারে সাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিকে অতিক্রম করে তিনি চলে আসেন চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে। তবে একটা আক্ষেপ থেকে গেল তার। ভিড়ের কারণে মূল সভাস্থল পলোগ্রাউন্ড মাঠে শেষ পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেননি। মঞ্চে বসা প্রধানমন্ত্রীকেও আর সরাসরি দেখা হয়নি তার।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে ট্রলারে করে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছি। আজ (গতকাল) সকাল ৮টার দিকেই মাঠে চলে আসি। মাঠ থেকে একটু বের হয়েছিলাম। ভিড়ে পরে আর ঢুকতে পারিনি।’

বর্ণিল স্লোগান রঙিন ফেস্টুন : জনসভার মাঠ ছাড়াও আশপাশের এলাকাজুড়ে শোভা পায় বর্ণিল নানা স্লোগানে রঙিন ফেস্টুন। তবে অনেকেরই নজর কাড়ে এক তরুণকে। হাসিখুশি তরুণের উদোম শরীরে সাদা ক্যানভাস। তাতে লেখা ‘শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ ধন্য’। পতেঙ্গা বন্দরটিলার নারী শক্তির হাজারো নারী নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন অভিন্ন ডিজাইনের শাড়িতে। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, মূল মাঠে একটি ফেস্টুন দুই হাতে উঁচিয়ে ধরে আছেন মো. আলী। তাতে লাল রঙে লেখা ‘আমি চাই বাংলার মানুষের মুক্তি, শোষণের মুক্তি, যদি বাংলার মানুষের মুক্তি না আসে, তবে আমার কাছে মৃত্যুই শ্রেয়- জননেত্রী শেখ হাসিনা’। দেশপ্রেমে বাংলাদেশর ব্যানারে এক ভক্ত প্রচার করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণসহ সরকারের নানা উন্নয়নযজ্ঞ। এ ছাড়া বাহারি ও বর্ণিল নৌকা দেখা যায় প্রতিটি মিছিলের আগে। কিছু মিছিলে ছিল বড় বড় জাতীয় পতাকা।

 

সর্বশেষ খবর