২০ নভেম্বর, ২০২১ ০৫:১০

কোরআন ও রসুল (সা.) আল্লাহর নুর

মো. আমিনুল ইসলাম

কোরআন ও রসুল (সা.) আল্লাহর নুর

কোরআন না রসুল (সা.) আল্লাহর নুর- এ নিয়ে আমাদের আলেম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন রকমের মন্তব্য রয়েছে। আল কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে কিতাবিরা! আমাদের রসুল তোমাদের কাছে এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি সেসবের অনেক কিছু তোমাদের কাছে প্রকাশ করছেন। অবশ্যই আল্লাহর কাছে থেকে এ এক আলোকবর্তিকা (জ্যোতি) ও সুস্পষ্ট কিতাব তোমাদের কাছে এসেছে।’ 

সুরা আল মায়েদা আয়াত ১৫। এ আয়াতের প্রথমাংশে রসুল (সা.) কর্তৃক কাফিররা কোরআনের যেসব বিষয়ে মতভেদ ও গোপন করতে চাইত তা প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করার কথা যারা অস্বীকার করবে তারা কোরআনের সঙ্গে এমনভাবে কুফরি করল যা তারা বুঝতেই পারল না।

দ্বিতীয় অংশে কোরআনকে আল্লাহর ‘নুর’ বলা হয়েছে। আমাদের দেশের বিজ্ঞ আলেমের অনেকের মতে কোরআন আল্লাহর নুর আবার কারও মতে রসুল (সা.)। তবে কোরআন ও রসুল (সা.) একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই রসুল ও কিতাব উভয় ক্ষেত্রেই নুর বিশেষণ ব্যবহার করা হয়। নুরের উদ্দেশ্য হলো ইসলামের দিকে আহ্বানকারী রসুল (সা.) ও ইসলামের বিধানসংবলিত কিতাব অথবা রসুল (সা.) ও কিতাব উভয়ই।

সুরা আহজাবের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আমি তোমাকে হেদায়েতের সাক্ষী বানিয়ে পাঠিয়েছি, আরও বানিয়েছি জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও জাহান্নামের সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।’
আবার একাধিকবার আল্লাহ তাঁর কিতাবকে তাঁকে নুর হিসেবে বিশেষিত করেছেন। 

আল্লাহ বলেন, ‘আর এভাবে আমরা আপনার প্রতি আমাদের নির্দেশ থেকে রুহকে ওহি করেছি, আপনি তো জানতেন না কিতাব কী? এবং ইমান কী? কিন্তু আমরা এটাকে করেছি নুর, যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের যাকে চাই তাকে হেদায়েত দান করি, আর আমার আদেশক্রমে আপনি তো অবশ্যই সরল পথের দিকে দিকনির্দেশ করেন।’ সুরা আশ সুরা আয়াত ৫২।

সুরা আন নিসার ১৭৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের রবের কাছ থেকে তোমাদের কাছে প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি নাজিল করেছি।’

কোরআনের এসব আয়াত দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে আসমান থেকে নাজিলকৃত আল্লাহর সব কিতাবই নুর। যা তাঁর বান্দাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাকেই হেদায়েত দান করেন যে তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে দীনের ওপর অবিচল থাকে। অতএব নুর হচ্ছে ওহির নুর। এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের ইবাদত সম্পর্কে দিকনির্দেশনা লাভ করে।

সুরা আন নুরে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যাকে চান তাকেই তিনি তাঁর এ নুরের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।’ আয়াত ৩৫। সুরা আজ জুমারের ২২ নম্বর আয়াতে বিবৃত হয়েছে, ‘যার অন্তরকে আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন সে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি হেদায়েতের নুরের ওপর রয়েছে।’

আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের তাঁর নুরের ওপর চলার তৌফিক দান করুন। তাঁর রসুলের আদর্শ অনুযায়ী জীবন গড়ার তৌফিক দিন। হেদায়েত তাঁর পক্ষ থেকেই।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর