শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ২০:৫৬
আপডেট : ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ২১:৪৭
প্রিন্ট করুন printer

ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করো, আমি জেলে থেকে বাংলাকে জেতাব: মমতা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করো, আমি জেলে থেকে বাংলাকে জেতাব: মমতা
ফাইল ছবি

আগামী বছরের গোড়ার দিকে (এপ্রিল-মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভার আসনে নির্বাচন। তার আগে বুধবার (২৫ নভেম্বর) বাঁকুড়া জেলার শুনুকপাহাড়ি ময়দানের জনসভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জি। 

কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে নিশানা করে তিনি জানান, নির্বাচন আসলেই এরা এজেন্সি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় দেখায়। যাতে তৃণমূলের কিছু নেতা ভয় পেয়ে ওদের সাথে চলে যায়। ওরা বলছে হয় ঘরে থাকো, নয় জেলে থাকো। আমি বলবো ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেফতার করো। আমি জেলে থাকবো এবং জেলে থেকেই আমি বাংলাকে জেতাবো। এই চ্যালেঞ্জ করে গেলাম।
 
এসময় সম্প্রতি বিহারের নির্বাচন ও কারাগারে বন্দি থাকা রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, লালু প্রসাদকে দীর্ঘদিন ধরে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। তাতে কি ওদের ভাল ফল আটকানো গেছে? বিহারে যেটা হয়েছে, সেটাকে কি জেতা বলে? ওখানে ম্যানিপুলেশন করে জিতেছে (বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জয় পায়)। ওটাকে জেতা বলে না। কাজেই মনে রাখতে হবে যে এইসব চমকানো, ধমকানো আমি ভয় পাই না।
   
একুশের নির্বাচনের আগে মূলত এটাই মমতার প্রথম নির্বাচনী জনসভা। কারণ গত মার্চে দেশজুড়ে করোনা প্রকোপ দেওয়ায় গত প্রায় সাত মাস কলকাতার বাইরে কোন সভায় হাজির হননি তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গত ২২ নভেম্বর বাঁকুড়ার সফরে আসেন মমতা। তিন দিনের সফরে বুধবার বিকালেই তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন।

কিন্তু তার আগে এদিন দুপুরের জনসভা থেকে বিজেপিকে 'গারবেজ অব লাইস' বা 'মিথ্যার ডাস্টবিন' বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এত মিথ্যা ও কুৎসা কোন দিনও কেউ করতে পারবে না। এরা বছরের ৩৬৫ দিনই মানুষকে বোকা বানায়। এছাড়া তাদের কোন কাজ নেই।
 
বিজেপি বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ফোন করে তৃণমূল কর্মীকে বলছে দুই কোটি রুপি দেবো চলে আয়। কোন একজন বিধায়ককেও ফোন করে বলেছে এখন ১৫ লাখ রুপি দিচ্ছি পরে আরও ১৫ লাখ দেবো। তার প্রশ্ন ‘এটা একটা রাজনৈতিক দল?’

এদিনের সভা থেকে দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে আরও স্বচ্ছ হওয়ার বার্তা দিয়ে মমতার অভিমত, রাজনীতিতে তিন ধরনের মানুষ থাকে। লোভী, ভোগী এবং ত্যাগী। সিপিআইএম হচ্ছে সবচেয়ে বড় লোভী, বিজেপি হলো ভোগী। আর যদি তৃণমূল কংগ্রেস করতে গেলে আপনাদের ত্যাগী হতে হবে, লোভী হলে চলবে না।
 
সিপিআইএম-বিজেপি-কংগ্রেসকে জগাই মাধাই বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আজ বাঁকুড়া খুব শান্তিতে আছে তাই সিপিআইএম-বিজেপি-কংগ্রেসের খুব রাগ হয়েছে। আজ এই জগাই-মাধাই-গদাই এক হয়েছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য গত লোকসভা নির্বাচনে একসাথে কাজ করেছে, রুপি নিয়েছে, একসাথে ভোট দিয়েছে।
 
গত লোকসভা নির্বাচনে আদিবাসী অধ্যুষিত বাঁকুড়ার ২ টি লোকসভা আসনে জয় পায় বিজেপি। লোকসভার ভোটের ফলাফরের নিরিখে ১৪ টি বিধানসভার আসনে এগিয়ে গেরুয়া শিবির। আর সেই বাঁকুড়ায় দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে এদিন মমতা জানান, এবার বাঁকুড়ার এক-একটি আসন বুঝে নেবো। একটিতেও বিজেপি বা সিপিআইএম থাকবে না। আগামী দিনে গোটা বাংলাতেই সিপিআইএম-বিজেপি-কংগ্রেস নির্মূল হয়ে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেসই ক্ষমতায় থাকবে। আর কেউ থাকবে না। 
 
দিল্লির বিজেপি নেতাদের তোপ দেগে মমতা বলেন, খরা, বন্যা বা কোভিডের সময় এদের পাত্তা পাওয়া যায় না অথচ আজ যখন মানুষ যখন শান্তিতে বসবাস করছেন তখন মানুষের শান্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য ‘দিল্লি কা লাড্ডু’ কয়েকজনকে বাংলায় পাঠিয়েছে। তারা বাংলার লোক নয়। এরা বাংলার বাইরের লোক। এরা সব কেড়ে নেবে, লুটে নেবে। আর নির্বাচনের সময় আপনার ব্যাঙ্কে রুপি জমা দিচ্ছে। সেটা আপনারা নিয়ে নেবেন। কিন্তু একটিও ভোট দেবেন না।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর