শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:০২
আপডেট : ১০ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:৪৩
প্রিন্ট করুন printer

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: স্মৃতিচারণায় পঙ্কজ সাহা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: স্মৃতিচারণায় পঙ্কজ সাহা
পঙ্কজ সাহা

আজ ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনেই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। 
আর এই দিনটিতেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’ (আকাশবাণী) এর প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং কলকাতার দুরদর্শন কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক পঙ্কজ সাহা।
 
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পঙ্কজ সাহাই ছিলেন আকাশবাণী কলকাতার সাংবাদিক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আকাশবাণীর সংবাদ সংগ্রহ এবং বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন রেডিও অনুষ্ঠান করে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকারের তরফে পঙ্কজ সাহাকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ পদক দেওয়া হয়। 

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে কলকাতায় বসে এদিন পঙ্কজ সাহা বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। এই দিনটার কথা কোন বাঙালিই ভুলতে পারবে না। এই দিনটির সাথে আমার নিজের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে ফেরার জন্য ওই বছরের ৯ জানুয়ারি ভোর ছয়টায় তিনি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকা। হিথরো বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তার সাথে দেখা করেন ভারতের উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা ও ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিরা। সেখানেই বঙ্গবন্ধুর সাথে টেলিফোনে আধা ঘণ্টা কথা হয় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর। মাঝে কিছু বিরতির পর ফের এক ঘণ্টা তাদের উভয়ের মধ্যে টেলিফোনে কথা বার্তা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন। এই যাত্রাপথে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী হয়েছিলেন ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি, ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী।’ 
‘ঢাকায় ফেরার আগে দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা হয়। সেখানে একই মঞ্চ থেকে ইন্দিরা ও বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করেন। ভারতের তরফে বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।’ 
‘যাই হোক স্বাভাবিক ভাবেই বঙ্গবন্ধু দেশের ফেরার ব্যাপারে খুবই উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন যে কত তাড়াতাড়ি তিনি দেশের মাটিতে পা রাখবেন। তিনি মাঝে মধ্যেই বলছিলেন যে, স্বাধীন বাংলা আমার বাংলা।’ 

‘একটা সময় বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ এই গানটা গাইতে শুরু করেন। সেখানে তার সাথে যেকজন বাঙালি ছিলেন তাদেরকেও সেই গানটি গাইতে অনুরোধ করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ওই বিমান যাত্রাপথেই এই গানটা হওয়ার পর বিমানে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন এই গানটিই হবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। যেটা আমার কাছে খুব উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে হয়।’

‘পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ওই বিমান যাত্রা পথেই বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করেন যে কলকাতার মানুষ আপনাকে দেখতে চাইছে। তারা সকলেই অস্থির হয়ে আছে। আপনি কলকাতায় একবারটি পা রাখুন। সেইমাত্রই আমাদের সংবাদমাধ্যমের কাছে খবর এল যে তিনি কলকাতায় নামতে চলেছেন। দমদম বিমানবন্দরেও প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বিমানবন্দরেই মঞ্চ বাধা হল যে তিনি সেখানে বক্তৃতা রাখবেন। আমি তখন আকাশবাণীর তরুণতম প্রযোজক। আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিবিড় ভাবে যুক্ত হয়ে আছি। যেহেতু আমার পরিবারও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে। সেক্ষেত্রে আমিও জন্মভূমি হিসাবে বাংলাদেশকে দেখি। তাই আমার আবেগটাও একটু অন্যরকম ছিল। শুধু পেশাদারী নয়, তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত আবেগও জড়িয়ে গিয়েছিল। যাইহোক আমাকে যখন বলা হলো যে বঙ্গবন্ধু আসবেন এবং বিমানবন্দরে নামবেন। আমিও সেখানে চলে যাই অনুষ্ঠান কভার করতে। আমি তখন টেপ রেকর্ডার নিয়ে বিমান বন্দরের দিকে ছুটলাম। সেখানে দেখলাম মঞ্চ বাধা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে জনতা বাড়ছে। ক্রমেই বিপুল জনসমাগমে পরিণত হল বিমানবন্দর চত্বর। তারা সকলেই ধ্বনি দিতে লাগলো ‘শেখ মুজিব ফিরে এসো, শেখ মুজিব ফিরে এসো। জয় বাংলা, জয় শেখ মুজিবুর রহমান।’ তখনও আমাদের এখানে বঙ্গবন্ধু বলে সম্মোধন করাটা চালু হয়নি। তখন শেখ মুজিব বা শেখ মুজিবুর রহমান বলে ডাকা হতো। আমি সেখানে পৌঁছে সাধারণ মানুষের ইন্টারভিউ করতে লাগলাম। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম যে আপনারা কে কোথা থেকে এসেছেন, আপনাদের কেন এসেছেন, আপনাদের কি প্রত্যাশ্যা। লোকেরাও তাদের নানা মতামত জানালো। আমি যখন রেকর্ড করছি ঠিক সেইসময়ই বিমাবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এক ব্যক্তি আমাকে আমার পরিচয় জানতে চাইলো যে আমি আকাশবাণীর প্রতিনিধি কি না। এরপরই তিনি বললেন এক্ষুনি আপনাকে যেতে হবে। একটা বার্তা আসবে এবং সেটা রেকর্ড করতে হবে। কিন্তু কার বার্তা আসবে তা পরিস্কার ছিল না। আমিও টেপ রেকর্ডার নিয়ে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলে পৌঁছালাম। আমি টেপ রেকর্ডার অন করলাম এরপরই আকাশ থেকে বঙ্গবন্ধুর সেই কন্ঠস্বর ভেসে আসলো। সেখানে তিনি বললেন আমি আপনাদের অপেক্ষার কথা জেনেছি। আপনারা আমার জন্য দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন। আপনাদের সবাইকে আমার অসীম কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা। মায়েরা, বন্ধুরা, আপনাদের কলকাতার মানুষ, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, ভারতের  মানুষ... আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে সাহায্য, ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেই জন্য আমাদের তরফ থেকে কৃতজ্ঞতা। তবে কলকাতার আকাশে এসে আজকে আমার ভীষণ ইচ্ছা করছে যে সবার আগে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করি। আপনাদের আমি নিরাশ করলাম কিন্তু আমি প্রথম সুযোগেই আসবো। এরপর আমি সেই রেকর্ডিংটি মাইক্রোফোনের সামনে সমস্ত মানুষকে শোনালাম। বঙ্গবন্ধুর এই বার্তা শুনে মানুষ খুব হতাশ হলেন। তখন আমার মনে হলো আগে যে সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল সেটা কি বিফলে যাবে? তাই আমি পরে আরও বেশ কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা তাদের হতাশার কথা তুলে ধরলো। এরপর সন্ধ্যাবেলায় আমরা আকাশবাণীতে ‘প্রত্যাশা এবং হতাশা’ নামে একটি অনুষ্ঠান করেছিলাম।’
 
‘...এরপর অবশ্য ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এলেন, তিনি কথা রাখলেন। দুদিনের জন্য তিনি কলকাতায় আসেন। ওইদিন তাকে কলকাতায় স্বাগত জানান ইন্দিরা গান্ধী। পরে ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে বিশাল জনসভা হয়। একই মঞ্চ থেকে ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু দুজনেই বক্তব্য রাখলেন। আমার সৌভাগ্য যে আমাকে ওই অনুষ্ঠানের রানিং কমেন্ট্রি (চলমান ধারাভাষ্যকার) করতে বলা হয়েছিল। আমার সাথেই ছিলেন দুই শ্রদ্ধেয় এবং প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ও দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একটা মঞ্চ করা হয়েছিল যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার সাংবাদিকরা তাদের বিবরণী দিচ্ছিলেন। এবং ওইদিনই জীবনের প্রথম এতগুলো ভাষা একসাথে শুনতে পেলাম। আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো তখনও আমাদের ভারতে টেলিভিশন আসেনি কিন্তু বাংলাদেশে এসেছে। ফলে তাদের টেলিভিশনের সাদা রঙের একটি আউটডোর ব্রডকাস্টিং (ওভি) ভ্যান আসে। সেটা আমরা দেখতে পাই। এবং বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য ভাষণ শুরু হওয়ার আগে টেলিভিশন এর কাজ কিভাবে হয় সে ব্যাপারে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়।’ 
‘বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা চলাকালীন মাঝেমধ্যেই তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা নিজের স্মৃতি থেকে উদার কণ্ঠে আবৃত্তি করছিলেন। আর সেটি মানুষের এতো ভালো লাগছিল যে শেখ মুজিবকে অনুরোধ করা হচ্ছিল আরও কয়েকটি কবিতা বলার জন্য এবং তিনিও তাঁর স্মৃতি থেকে আরেকটি কবিতা বলতে লাগেন। কবিতায় তার দখল ও মুখস্ত দেখে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছিল যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কাছে কতটা প্রেরণা ছিলেন।’ 

‘...এরইমধ্যে আমার অফিস থেকে ফোন করে ফিরে আসতে বলা হলো এবং আমাকে বলা হলো আজ একটা বিশেষ অনুষ্ঠান করতে হবে- যেটা একইসঙ্গে বাংলাদেশ বেতার এবং আকাশবাণী থেকে সম্প্রচারিত হবে। এর জন্য খুব অল্প সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আমিও ঠিক করলাম যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যেমন পরিচালক মৃণাল সেন, নাট্যকার শম্ভু মিত্র, সঙ্গীতশিল্পী পঙ্কজ কুমার মল্লিক, ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র  মজুমদার এবং বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু-দের নিয়ে ওই অনুষ্ঠান করা হবে। আমি তাদের ইন্টারভিউ নিলাম। তারাও যে যার মতো করে বললেন। কিন্তু এদের সত্যেন্দ্রনাথ বসু বলেছিলেন ‘আমি বাংলাদেশের পড়িয়েছি। আমি জানি এবার ভাইয়ে-ভাইয়ে বিবাদ শুরু হবে। আমার বলতে খারাপ লাগছে কিন্তু এটাই সত্য হবে।’ 

আর অন্যদিকে ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন ‘আমি দীর্ঘদিন বাংলাদেশে ছিলাম। ওখানকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ছিলাম। আমি যদি ইতিহাস কিছুটা জানি তাহলে বলব এই যে শুভবোধ, ভাতৃত্ববোধ, মাতৃত্ববোধ- এগুলো থাকবে না। নিজেদের মধ্যে অশুভ শক্তি মাথা তুলবে এবং বাংলাদেশের মাটি রক্তাক্ত হবে। শেখ মুজিবর এর জীবন সংশয় হতে পারে।’ 

তার এ কথা শুনে আমি তখন চমকে উঠি। আমি তখন আমাদের স্টেশন ডিরেক্টর-কে বিষয়টা জানাই। তিনি আমাকে জানান, অতিথিরা যে বক্তব্য রেখেছেন সেটাই আমাদের সম্প্রচারিত করতে হবে। এতে আমার চাকরি থাকতেও পারে, আবার যেতেও পারে। যাইহোক আমি সেটা সম্প্রচার করেছিলাম এবং পরে চাকরিটাও বজায় ছিল। মানুষেরও সেটি খুব ভাল লেগেছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধু সেটি শুনেছিলেন। 
‘...বঙ্গবন্ধুকে রাজভবনে খবর পাঠানো হয়েছিল। পরের দিন আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই। তাকে প্রণাম করি এবং ওই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাই। তিনি ওই অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন। 
পরের দিন নজরুল ইসলামের দুই পুত্র কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ রাজভবনে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন। বঙ্গবন্ধু তাদের পিতা কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পরে সে বছরই কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ যান। এবং ২৪ মে কাজী নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। যদিও পরে বাংলাদেশের মাটিতেই প্রয়াত হন।’  

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৮
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:০৪
প্রিন্ট করুন printer

ট্রাক্টর উল্টে মৃত্যু কৃষকের, গুলি চালানোর অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

ট্রাক্টর উল্টে মৃত্যু কৃষকের, গুলি চালানোর অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে

কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিলের জেরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল ভারতের দিল্লি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২৬ জানুয়ারি দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে ট্রাক্টর মিছিলের ডাক দেয় আন্দোলনরত কৃষকরা। সেই উপলক্ষে এদিন সকালের দিকে দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের সিঙ্ঘু, গাজিপুর পয়েন্ট জড়ো হয় অসংখ্য ট্রাক্টর।

এরপর তারা র‌্যালি করে দিল্লিতে প্রবেশ করে। এনিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সাথে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ বাধে বিক্ষোভকারীদের। কোথাও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়, কোথাও পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পাল্টা কৃষকরাও লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এমনকি বেশ কিছু আন্দোলনরত কৃষকদের তলোয়ার হাতে পুলিশের দিকে তেড়ে যেতেও দেখা যায়। 

এরপর বেলা গড়িয়ে দুপুর হতেই ব্যারিকেড ভেঙে লালকেল্লা ঢুকে পড়ে একদল বিক্ষোভকারী। এরপরেই কয়েকজন কৃষক লালকেল্লায় ঢুকে পড়েন এবং সেখানে কৃষক সংগঠন নিশান সাহিবের পতাকা ওড়ান। 

স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় যেখান থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়, সেখানেই ওড়ানো হয় কৃষক সংগঠনের পতাকা। জাতীয় পতাকার থেকে উঁচুতে টাঙানো হয় কৃষক সংগঠনের ওই পতাকা। যা জাতীয় পতাকার অবমাননা-এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে অবশ্য পুলিশ সেই পতাকা নামিয়ে দেয়। 

এনিয়ে রেড রোডে আন্দোলনকারী এক কৃষক জানান ‘মোদি সরকারকে বার্তা দিতেই আমরা এখানে জমায়েত হয়েছি এবং আমাদের কাজ হয়ে গেছে। আমরা এবার ফিরে যাবো।’ অন্য আরেক কৃষক জানান ‘আমাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলেও আমরা রেড রোডে পৌঁছতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্যে না পৌঁছনো না পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

এদিন দুপুরেই দিল্লির আইটিও সংযোগস্থলে বিক্ষোভকারীদের সাথে কৃষকদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। ব্যারিকেড ভেঙে ইন্ডিয়া গেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। 

তারই মধ্যে মিন্টো রোডের কাছে ট্রাক্টর উল্টে এক বিক্ষোভকারী কৃষকের মৃত্যু হয়। ট্রাক্টরের নিচে তাঁর লাশ চাপা পড়ে থাকতে দেখ যায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিক্ষোভকারীদের দাবি পুলিশের গুলিতেই নিহত হয়েছে ওই কৃষক। একসময় ওই লাশ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। 

তবে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের পর কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিলের শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই দিল্লির দিকে অভিযান শুরু করে কৃষকদের একাংশ। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদই খবর পাওয়া যায় সিঙ্ঘু ও তিকরি সীমান্তে ব্যারিকেড ভেঙে আউটার রিং রোডের দিকে যাচ্ছে কৃষকদের মিছিল। যেটি অবশ্য আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। যা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। 

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে নয়ডা সেক্টর-৩৪ সহ দিল্লির একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত বন্ধ করে রাখা হবে এই পরিষেবা। 

এদিকে কৃষক আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। টুইট বার্তায় তিনি বলেন ‘সহিংসতা কোনও সমস্যার সমাধান নয়। চোট-আঘাত যারই লাগুক, ক্ষতি যারই হোক না কেন, আসল ক্ষতি কিন্তু আমাদের দেশেরই। দেশের কল্যাণেই স্বার্থেই কৃষি-বিরোধী আইন তুলে নেওয়া হোক।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:১০
প্রিন্ট করুন printer

প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমাকে অপমান করা হয়েছে, অভিযোগ মমতার

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমাকে অপমান করা হয়েছে, অভিযোগ মমতার
মমতা ব্যানার্জি

গত ২৩ জানুয়ারি কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানের দর্শকাসন থেকে ভেসে আসা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে মুখ খুললেন মমতা ব্যানার্জি। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে ‘ভারত জ্বালাও পার্টি’ বলে বিদ্রুপ করেন তিনি। তার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমায় টিজ করা হয়েছে। 

ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মশতবার্ষির্কী উপলক্ষ্যে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়’এর মতো বিশিষ্টরা। কিন্তু বক্তব্য রাখার জন্য মমতার নাম ঘোষণার পরই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ওঠার পরই ক্ষুব্ধ হন মমতা। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করে বক্তব্য না রেখেই ডায়াস ছাড়েন। 

সোমবার রাজ্যটির হুগলি জেলার পুরশুড়াতে এক দলীয় সভায় থেকে ওই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতা বলেন ‘নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আমাদের সকলের নেতা। তার অনুষ্ঠানে আমি গেলাম.. এত বড় সাহস! কয়েকটা গর্ধ গদ্দার এবং উগ্র গর্ধ ধর্মান্ধ প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমার টিজ করছে। ওরা আমায় চেনে না, আমায় যদি কোন মা-বোনেরা বাসন মেজে দেওয়ার কথা বলে আমি তাই করে দেবো কিন্তু আমায় যদি বন্দুক দেখিয়েছো তবে আমি তোমাদের বন্দুকের সিন্দুক দেখাবো। কারণ আমি সত্যি কারের বন্দুকে বিশ্বাস করি না, আমি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, রাজনীতি দিয়ে আমি এর প্রত্যুত্তর নেবো।’ 

তিনি আরও বলেন ‘আমি সেদিন বলেছিলাম যে আপনারা (প্রধানমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, বন প্রতিমন্ত্রী) এসেছেন বলে আমি ধন্য। আপনারা যদি নেতাজীর কথা বলতেন আমি স্যালুট করতাম কিন্তু তা না করে যা করা হয়েছে বাংলাকে অপমান করা হয়েছে, নেতাজীকে অপমান করা হয়েছে। এর আগেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাঁওতাল নেতা বীরসা মুন্ডাকে অপমান করা হয়েছে।’ 

রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতার অভিমত ‘তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, আছে, থাকবে। বিজেপির মতো আমাদের অত রুপি নেই। কিন্তু আমরা দলের পুরেনো পতাকা কেঁচে নিয়ে বা পত্রিকা কেটে আমাদের দলের পোস্টার করা হবে, দরকার হলে রক্ত দিয়ে কাজ করবো কিন্তু আমাদের শপথ বিজেপিকে, বহিরাগতদের আমরা এই বাংলায় ঢুকতে দেবো না। 
বিজেপিকে বহিরাগত জ্বালাও পার্টি বলেও কটাক্ষ করে মমতা বলেন ‘যারা বাইরে থেকে বাক্স-প্যাটরা নিয়ে এসে বলছে আমরা বাংলাকে গুজরাট বানিয়ে দেবো। কখনও বলছে বাংলার মেরুদণ্ড ভেঙে দেবো, কখনও বলছে হয় জেলে থাকো, নয় ঘরে থাকো। আমি জেলে থাকতে রাজি আছি কিন্তু বিজেপির ঘরে থাকতে রাজি নই। আর যতদিন বেঁচে থাকবো মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকবো। মাথা যদি নিচু করতে হয় জনগণের কাছে তা করবো কিন্তু বিজেপির কাছে মাথা নত করতে পারবো না। তার চেয়ে ভাল নিজের গলা নিজে কেটে দেবো। তাতে আমাকে যেখানে ইচ্ছে পাঠাতে পারে।’

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:২০
প্রিন্ট করুন printer

‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান শুনেই রেগে ডায়াস ছাড়লেন মমতা!

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান শুনেই রেগে ডায়াস ছাড়লেন মমতা!

সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে অপমান করা হয়েছে-এই অভিযোগ তুলে কোন বক্তব্যই রাখলেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আজ ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মবার্ষির্কী উপলক্ষ্যে বিকালে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। 

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল, কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। 

অনুষ্ঠানে প্রহ্লাদ সিং প্যাটেলের বক্তব্য শেষেই সঞ্চালক মমতাকে তার বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানান। কিন্তু মমতার নাম ঘোষণার পরই দর্শক আসন থেকে হাল্কা গুঞ্জন ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ভেসে আসে। আর তাতেই মেজাজ হারান মমতা। 

পরে ডায়াসে দাঁড়িয়ে তার তীব্র প্রতিবাদ করেন মমতা। তিনি বলেন ‘আমার মনে হয় সরকারি অনুষ্ঠানের একটা ডিগনিটি (মর্যাদা) থাকা উচিত। এটা সরকারি অনুষ্ঠান, কোন একটি রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান নয়। এটা সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠান। আমি প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে খুবই কৃতজ্ঞ যে আপনারা কলকাতায় নেতাজীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। কিন্তু কাউকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে বেইজ্জত করা আপনাদের শোভা পায় না (লেকিন কিসি কো আমন্ত্রিত কর কে বেইজ্জত করনা আপ লোগো কো শোভা নেহি দেতা)। এই ঘটনার প্রতিবাদেই আমি আর কিছু বলতে চাই না। জয় হিন্দ, জয় বাংলা।’ এরপরই ডায়াস ছেড়ে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে নিজের আসনে গিয়ে বসে পড়েন। তবে তার পরও বেশ কিছুটা বিধ্বস্ত দেখায় মমতাকে। 

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ট্যুইট করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিনেত্রী নুসরাত জাহান রুহি। তিনি লেখেন ‘ভাররেতর অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম বাষির্কী উদযাপনের মতো একটি সরকারি অনুষ্ঠান থেকে কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় স্লোগানের কঠোর নিন্দা জানাই।’ 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:১৬
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:৪৯
প্রিন্ট করুন printer

কলকাতাকে রাজধানী করা হোক : মমতা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা :

কলকাতাকে রাজধানী করা হোক : মমতা
ফাইল ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি  প্রশ্ন তুললেন, ‘দেশে (ভারতে) কেন একটা রাজধানী? দেশের চার প্রান্তে চারটি রাজধানী হোক। ভারতের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব, এই চারটি প্রান্তে চারটি রাজধানী হোক।'' নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উদ্‍যাপন উপলক্ষ্যে জয়ন্তীর মঞ্চ থেকে আজ এই দাবি যেআলোড়ন সৃষ্টিকারী, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কলকাতাকে ভারতের রাজধানী করার পক্ষে কিছু তথ্য তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘কলকাতা একদিন ভারতের রাজধানী ছিল। এই কলকাতা থেকে ব্রিটিশরা ভারত চালাত। এমনি এমনি কলকাতাকে নির্বাচিত করা হয়নি। তবে আজ কলকাতা কেন ভারতের একটা রাজধানী তবে না? আমি তো মনে করি ভারতের একটা রাজধানী কলকাতা হতে হবে। তার কারণ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্মদাতা ছিল বাংলা, বিহারসহ এই সব জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘কলকাতা বেলেঘাটা গান্ধী ভবনে এসে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী আন্দোলন করতেন। নবজাগরণ শুরু হয়েছে বাংলা থেকে। বিধবা বিবাহ প্রচলন, বাল্য বিবাহ রোধ, সতীদাহ প্রথা নিবারণ- প্রতিটি সামাজিক সংস্কারের জন্ম হয়েছে বাংলার মাটি থেকে। তাই এই বাংলা কোন অবহেলা সহ্য করবে না। বাংলা কখনও মাথা নিচু করতে জানে না। এই বাংলা মাথা উঁচু করে চলতে জানে। নেতাজির নাম বললেই আমার হৃদয়ে একটা আবেগের জায়গায় জন্ম নেয়।’

শনিবার কলকাতার শ্যামবাজার মোড় থেকে রেড রোড পর্যন্ত একটি মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিল শেষে নিজের বক্তৃতায় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি তথা বাংলার আরও অনেক ভূমিকা তুলে ধরেন মমতা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং নবজাগরণের সূচনাস্থল যে বাংলাই, সেটাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এরপরই ‘গান্ধীবাদ-সুভাষবাদ জিন্দাবাদ’, ‘সুভাষ বোস জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলেন মমতা। এসময় নেতাজীর জন্মদিনকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করার আরও একবার দাবি তোলেন মমতা। পাশাপাশি শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দেন, তরুণের স্বপ্ন এবং সবুজের অভিযান এই দুটো বই যেন কম্পালসারি করা হোক। 

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:১৮
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:৪৫
প্রিন্ট করুন printer

মৃত ব্যক্তির শুক্রানু নিয়ে ঐতিহাসিক রায় কলকাতা হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক

মৃত ব্যক্তির শুক্রানু নিয়ে ঐতিহাসিক রায় কলকাতা হাইকোর্টের

মৃত ব্যক্তির শুক্রানু নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিলেন কলকাতা হাইকোর্ট। আর তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে সেখানকার সমাজে। পুত্রের পিতৃত্বের অধিকারে কোনও দাবি থাকতে পারে না বাবার। 

শুক্রবার এক থ্যালাসেমিয়া রোগীর পিতৃত্বের অধিকার নিয়ে এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। 

রায়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও মৃত ব্যক্তির বীর্যের ওপর সবার প্রথম অধিকার তার স্ত্রীর। আর কারও নয়। কারণ সন্তান ধারণের পরবর্তী সিদ্ধান্ত তার কাঁধেই বর্তায়।”

আদালত সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক ব্যক্তি তার মৃত পুত্রের সংরক্ষিত থাকা বীর্যের ওপর অধিকার জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘদিন আগেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তি দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে জীবিত অবস্থায় তিনি তার বংশবৃদ্ধির জন্য বীর্য সংরক্ষণে সায় দেন। পরে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে সেই মৃত ব্যক্তির পিতৃত্বের অধিকার নিয়েই টানাপোড়েন শুরু হয়। সেই মামলার শুনানিতেই এই ঐতিহাসিক রায় দিতে দেখা যায় কলকাতা হাইকোর্টকে।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, সংরক্ষিত বীর্য গর্ভধারণের জন্য মৃতের স্ত্রী বা অন্য কাউকে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তার জন্য সর্বাগ্রে মৃতের স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাবা–ছেলের সম্পর্কের জোরে মৃত ব্যক্তির পিতৃত্বের অধিকারে কোনও রূপ হস্তক্ষেপ করতে পারে না তার পরিবার। রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবিধানের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদের উপরেও বিশেষভাবে জোর দিতে দেখা যায় বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যকে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর