শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:৪৭

বিশেষজ্ঞ মত

নিরাপত্তায় কাজ করতে হবে সমন্বিতভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপত্তায় কাজ করতে হবে সমন্বিতভাবে

সিএনজি ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বিপজ্জনক বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেছেন, মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যাবার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। গাড়ির ফিটনেসের সময় সিলিন্ডার রি-টেস্টের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হলে মানহীন বিপজ্জনক সিলিন্ডার ধরা পড়তো। অন্যদিকে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহূত গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তায় সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিস্ফোরক অধিদফতরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরক বিভাগ থেকে পাঁচ বছর পর পরীক্ষা করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। এটি সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণের অন্যতম কারণ। দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি ভালোমানের সিএনজি ও এলপিজি সিলিন্ডার ক্রয়ের উপর জোর দেন। তার মতে, নিয়মিত সিলিন্ডার গ্যাস পরীক্ষা করলে এতে কোনো দুর্বলতা আছে কিনা তা চিহ্নিত করা যায়। সাধারণত আমদানি করা সিলিন্ডারগুলোর মান ভালোই হয় কিন্তু ব্যবহারকারীরাও এগুলো ব্যবহারে উদাসীন। যেমন, সিলিন্ডারগুলো গড়িয়ে নেওয়া, ট্রাক থেকে ফেলে দেওয়ার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক আলী আহাম্মেদ খান বলেন, সাধারণত নিম্নমানের সিলিন্ডার এবং নিয়মিত পরীক্ষা না করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষের মধ্যেও সিলিন্ডার নিয়মিত পরীক্ষা করার আগ্রহ নেই। এগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি রেগুলেটরি বডি থাকা উচিত। বিস্ফোরক অধিদফতরের এই বিষয়টি পরীক্ষা করার সক্ষমতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আর এগুলো পুন:পরীক্ষার জন্য দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ লোকের প্রয়োজন। যেহেতু ক্রমেই এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে এজন্য এখনই এর সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলো আমাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অতি সম্প্রতি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মানুষের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দেখেছি যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের এই বিষয়ে সচেতনতার অভাব থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। এজন্য তিনি প্রতিটি সিলিন্ডার নিয়মিত পরীক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ। এতে শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে যায় এবং শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সিএনজি সেক্টরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. (আরপিজিসিএল) এর জেনারেল ম্যানেজার (সিএনজি) মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস বলেন, সিএনজি সিলিন্ডারের বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটছে মানহীন সিলিন্ডারের কারণে। তিনি বলেন, ৩ লাখ সিলিন্ডারের মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার সিলিন্ডার রি-টেস্ট করা হয়েছে। যারা খরচ বাঁচাতে অননুমোদিত ওয়ার্কশপ থেকে কনভার্সন করেছেন তাদের সিলিন্ডারের ঝুঁকি বেশি। সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, পুরনো বাস ট্রাকে নিম্নমানের সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এসব বাণিজ্যিক যানবাহনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মানুষের মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি। প্রতিনিয়ত হাতবদল হচ্ছে এমন গাড়িগুলোতে দ্রুত মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, বিআরটিএ’তে গাড়ির ফিটনেসের সময় সিলিন্ডার রি-টেস্টের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হলে সিলিন্ডার পরীক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর