শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৮

প্রস্তাবিত ভূমিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল নতুন জটিলতায় বে-টার্মিনাল

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

প্রস্তাবিত ভূমিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল নতুন জটিলতায় বে-টার্মিনাল

চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থায়নে প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল নির্মাণ নতুন করে জটিলতায় পড়েছে। প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ভূমির প্রায় ৪৬৫ একর গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ফলে এসব ভূমিতে টার্মিনাল নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন বন বিভাগ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়নে সিডিএ আপত্তি জানালেও পরে অনুমোদন দেয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের কাছে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ হালিশহর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত খিলা (অনাবাদি), খাল ও বালুচর শ্রেণির মোট ৪৬৪ দশমিক ৭৫ একর ভূমি বন্দোবস্তের প্রস্তাব করে। এর মধ্যে উত্তর পতেঙ্গা মৌজায় বিএস ১ নম্বর দাগের খিলা শ্রেণির ৭১ দশমিক ৪০ একর, ২ নম্বর দাগে খাল শ্রেণির ৬ দশমিক ৯৪ একর ও ৩ নম্বর দাগে খিলা শ্রেণির ১৪৩ দশমিক ২১ একর ভূমি রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ হালিশহর মৌজায় বিএস ১ নম্বর দাগে বালুচর শ্রেণির ৯১ দশমিক ২৫ একর, ১৪৩ নম্বর দাগে খাল শ্রেণির ৩ দশমিক ২০ একর ও ১৪৪ নম্বর দাগে বালুচর শ্রেণির ১৪৯ দশমিক ২০ একর ভূমি রয়েছে। বন্দোবস্তের জন্য প্রস্তাবিত এসব ভূমি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বন বিভাগের প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বে-টার্মিনাল এলাকার ভূমি বন্দোবস্ত বা অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এখনো আমাদের কাছে আসেনি। এলে এ ব্যাপারে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ জানা যায়, বন্দরের প্রস্তাবের পর জেলা প্রশাসন সহকারী ভূমি কমিশনার  (আগ্রাবাদ) থেকে সংগৃহীত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দক্ষিণ হালিশহর ও উত্তর পতেঙ্গা মৌজার জমি রিজার্ভ ফরেস্ট। বিধায় ডি-রিজার্ভেশন ব্যতিরেকে ওই ভূমি অধিগ্রহণ বা হস্তান্তরের সুযোগ নেই মর্মে উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা মতামত দেন।’ এ ছাড়া সহকারী কমিশনার (আগ্রাবাদ) ‘ওই জমি বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন, সেখানে জোয়ার-ভাটার পানি ওঠা-নামা করে মর্মে’ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তফসিলভুক্ত জমি বন বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত বন এলাকা ঘোষণার নিমিত্তে ২০১৪ সালের ৫ জুন গেজেটও প্রকাশিত হয় বলে জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে পতেঙ্গা এলাকার প্রায় ৯০৭ একর জমিতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। নৌ-মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে প্রকল্পটি সিডিএর অনুমোদনও পায়। ইতিমধ্যে এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ১৩টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র খ্যাত বন্দরের মাধ্যমে সমুদ্রপথে দেশের বহির্বাণিজ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ সম্পাদিত হয়। দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর দিয়ে বর্তমানে বছরে ১৬ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে। বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ১৩ শতাংশ, যা  দেশের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বন্দরের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমার শেষ প্রান্তে পতেঙ্গার অদূরে ধীরে ধীরে ১২ কিলোমিটার লম্বা চর জেগেছে। এ চর ও উপকূলের মাঝামাঝি প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার প্রশস্ত জাহাজ চলাচলের পথ বা চ্যানেল তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে জাহাজের দৈর্ঘ্য ও গভীরতার যে সীমাবদ্ধতা আছে, নতুন চ্যানেলে তা নেই। এ কারণে নতুন চ্যানেল ঘিরে নতুন বন্দর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা চালায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর