শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০১৮ ০০:০৭

বা জে টে র খ ব র

কর্মসংস্থান হবে ১৫ লাখ মানুষের

মানিক মুনতাসির

কর্মসংস্থান হবে ১৫ লাখ মানুষের

আগামী দুই বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় একটি রূপরেখা তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। চলতি বছর শেষে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবে। গত কয়েক বছরে আরও অন্তত ৩০ লাখ বেকার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে। এই সংখ্যক মানুষকে ২০২১ সালের আগেই কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অর্থবিভাগ সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যে একাধিক প্রাক-বাজেট সভায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মানব সম্পদ উন্নয়নকে। কেননা ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেতে হলে মানব সম্পদ খাতে আরও বেশি উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ জন্য এবারের বাজেটে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও ইনস্টিটিউট গঠনের রূপরেখা দিতে যাচ্ছেন তিনি। সূত্র জানায়, নতুন করে আরও ৩০ লাখ মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে। বেকার সমস্যাকে সম্পদে পরিণত করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। আর তা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডিএফআইডি, জাইকাসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো এজন্য একটি মানব সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বা মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠনের পরামর্শ দিয়েছে সরকারকে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মিনি কেবিনেটের সভায় এ বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপের খসড়া প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে দারিদ্র্য বিমোচনের মতো সাফল্য আসবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দেশে ২৬ লাখ বেকার থাকলেও এবার তা বেড়েছে। বিবিএসের জরিপের তথ্যানুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে দেশে ১৪ লাখ পুরুষ এবং ১৩ লাখ নারী বেকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড ব্যবহার করে বেকারত্বের এই হিসাব করে বিবিএস। ওই মানদণ্ড অনুযায়ী সক্ষম জনগোষ্ঠী যারা সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টাও কাজ করেন না, তাদেরকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক এই জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে চায় সরকার। এজন্য কর্মমুখী শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে বিশেষ কিছু কর্মসূচিও নেওয়া হবে আগামী বাজেটে। আর দক্ষ জনশক্তি রফতানি করতে না পারায় শ্রমিকরা বিদেশে কাজের খোঁজে গেলেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক দেশে ফিরে আসেন। এজন্য দক্ষ ও কর্মঠ জনশক্তি রফতানির জন্য মানব সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিট খুবই জরুরি। যার মাধ্যমে বেকার ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার পর বিদেশে পাঠানো সহজ হবে বলে মনে করে সরকার।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে তরুণ বেকারদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিতের হার ছিল ১২ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছর এই হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে। সংখ্যার হিসাবে ৩ লাখ ৯০ হাজার তরুণ উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছে যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে ১১ দশমিক ২ ভাগ ২ বছরের বেশি সময় ধরে বেকার রয়েছেন। এদের সবাইকে কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকারত্ব ঘুচাতে চায় সরকার।


আপনার মন্তব্য