শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০১৮ ০০:০৮

আ ই ন আ দা ল ত

আয়করমুক্ত সবাই পাবে বিনা খরচে আইনি সেবা

আরাফাত মুন্না

আয়করমুক্ত সবাই পাবে বিনা খরচে আইনি সেবা

লিগ্যাল এইড (বিনা খরচে আইনি সেবা) গ্রহীতাদের আয়সীমা করমুক্ত সীমার সমান করা হচ্ছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা পরিচালনা বোর্ডের সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এখন নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। বর্তমানে যাদের বার্ষিক গড় আয়সীমা এক লাখ বা ক্ষেত্রবিশেষে দেড় লাখ টাকা, তারাই এ সেবা পেয়ে থাকেন। সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালা সংশোধন হলেই যাদের আয়কর দিতে হয় না, এমন সবাই পাবেন সরকারি আইনগত সহায়তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার উপ-পরিচালক আবেদা সুলতানা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি আইন সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির আয়সীমা করমুক্ত আয়সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হচ্ছে। সব সময় করমুক্ত আয়সীমার নিচের ব্যক্তি যাতে সরকারি

খরচে আইনি সহায়তা নিতে পারে, সে জন্য এটি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গত বছর অক্টোবরে সংস্থার জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এখন নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আইন সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির আয়সীমা এক লাখ, ক্ষেত্রবিশেষ দেড় লাখ টাকা হতে হবে বলে উল্লেখ আছে। নীতিমালা সংশোধনের পর এ টাকার পরিমাণ উল্লেখ থাকবে না। সরকার-নির্ধারিত করমুক্ত আয়সীমা যা থাকবে, সেই সীমার নিচে যারা থাকবেন, তারা সবাই সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকারী হবেন। জানা গেছে, ধনী-গরিব সবার সমভাবে আইনের আশ্রয় লাভের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০০ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন প্রণয়ন করে সরকার। তবে আইনটির বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০০৯ সালে। প্রথম দিকে শুধু বিনা খরচে মামলা পরিচালনার মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়া হতো। বর্তমানে এ সহায়তার পরিধি বেড়েছে। আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে মামলা পরিচালনার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর), হটলাইনে/হেল্পলাইনে আইনি পরামর্শ প্রদান, শ্রমিক আইন সহায়তা সেল গঠনের মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তি তার আয়সীমা যতই হোক না কেন, আইনগত তথ্যসেবা, আইনগত পরামর্শ কিংবা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড সহায়তা নিতে পারেন। দিনে দিনে সরকারি আইন সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের সংস্থার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর চলতি বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৪ জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৭৬০ জন নারী, ৯৫ হাজার ৯৮১ জন পুরুষ এবং ৫২২ জন শিশু রয়েছে। ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল হেল্পলাইনে লিগ্যাল এইড সেবা শুরু হওয়ার পর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩ হাজার ৬৬২ জনকে এ সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৭৭ জন নারী ও ১৬ হাজার ৩৮৫ জন পুরুষ। এ ছাড়া ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস উদ্বোধনের পর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে ২ হাজার ৭২৪ জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা জজ আদালতগুলোয় একটি করে ‘লিগ্যাল এইড’ অফিস স্থাপন করা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে জেলা কমিটি, উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টে আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি রয়েছে। সরকারি খরচে মামলা পরিচালনা করতে, আইনগত পরামর্শ নিতে বা অন্য কোনো আইনগত সহায়তার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি এসব কমিটির কাছে আবেদন করতে পারেন। এরপর কমিটি আবেদনকারীর যোগ্যতা বিবেচনা করে আবেদন মঞ্জুর করে যে ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন তা প্রদান করে থাকে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার নিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতে বিনা খরচে মামলা পরিচালনা করেন।


আপনার মন্তব্য