Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৪৯

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বললেন

কোনো কোম্পানির পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করিনি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

কোনো কোম্পানির পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করিনি

কোনো কোম্পানির পক্ষে বা বিপক্ষে গিয়ে পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষণা করেননি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঔষধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বায়োলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক আ ব ম  ফারুক। তিনি বলেছেন, যাতে দেশের ডেইরি খাত উন্নত হয়, বাচ্চারা যাতে ভালো মানের দুধ খেতে পারে, আমরা সবাই যাতে ভালো দুধ খেতে পারি, এটা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষণা করার জেরে তাকে ‘হুমকি প্রদান এবং অমর্যাদাকর বক্তব্য’র প্রতিবাদে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, মানহীন দুধ দিয়ে এই সেক্টরের উন্নতি হবে না। আমাদের মানসম্মত দুধ লাগবে। এটা করতে গিয়ে কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তা লাগলে, কোনো কোম্পানি চাইলে আমরা তাদের সহায়তা করব।

দুধ পরীক্ষায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে, দুধের মধ্যে যে পানি দেওয়া হয়, তা থেকে। সেটা কি চাপকল নাকি পুকুরের পানি? আমরা মোট ১৯টি পরীক্ষা করেছি। বিএসটিআইয়ের গাইডলাইনের ৯টি ধাপ আমরা অনুসরণ করেছি। স্বাভাবিকভাবে বাকি ১০টি আমরা নিয়েছি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রসিদ্ধ জার্নাল ও প্রতিষ্ঠান থেকে। যেগুলোর বিস্তারিত রেফারেন্স গবেষণাপত্রে দেওয়া আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ প্রথমে গবেষণার দায় নেবে না বলে মন্তব্য করেছিল। কিন্তু তারাও পদ্ধতিগতভাবে গবেষণাটি ‘সঠিক’ বলেছে বলেও জানান অধ্যাপক ফারুক।  

বিএসটিআইয়ের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দুধে সিসা, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আ ব ম ফারুক এই ধরনের গবেষণাকে উৎসাহিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ডেইরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে- দুধকে সঠিকভাবে পাস্তুরিত করতে সঠিক পন্থা অনুসরণ, এই ইউনিটের কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রতিটি ধাপ কার্যকরী উপায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা, পশু চিকিৎসায় মানব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া অসুস্থ প্রাণীর দুধ এবং মাংস নির্দিষ্ট সময় পরে সংগ্রহ করা ইত্যাদি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আ ক ম  জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দুধ খামারি ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ বিতর্ক ও তির্যক বক্তব্য এখনো চলমান আছে, যা কারোরই কাম্য নয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর