শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৮

রংপুর বগুড়ায় রাতভর চলে

রংপুরের অভিজাত ও নামিদামি পাঁচটি ক্লাবে খেলাধুলার মানোন্নয়নের নামে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে অবৈধ জুয়ার আসর ও মাদক সেবন। সেই সঙ্গে সারা রাত চলে মাদক বেচাকেনা। ঢাকার ক্যাসিনো ক্লাবে র‌্যাবের কঠোর অভিযানের ফলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে রংপুরের অভিজাত কয়েকটি হোটেল ও ক্লাবপাড়ায়।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রশাসনকে মোটা অঙ্কের মাসহারা দিয়েই উত্তরের বিভাগীয় নগরের ওই পাঁচটি ক্লাবে চলে জুয়া ও মাদকের আড্ডা। এর সঙ্গে রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন সেক্টরের নেতাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত বলে জানা গেছে। বিগত দুই মাসে দুটি ক্লাবে আলাদা অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ও মাদক উদ্ধার করেছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। গত ছয় মাসে জুয়ার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একাধিক সংঘর্ষও ঘটেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরের জাহাজ কোম্পানি মোড়ের একটি অভিজাত ক্লাবের ম্যানেজার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘রাত গভীর হলেই ক্লাবে চলে লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর। সেই সঙ্গে চলে মাদক সেবনের আড্ডা। এজন্য প্রশাসনকে দেওয়া হয় মাসহারা।’

বগুড়ায় মিনি ক্যাসিনো জুয়ার আড্ডাগুলো : বগুড়ায় রাত হলেই জুয়ার আড্ডাগুলো হয়ে উঠছে মিনি ক্যাসিনো। দিনমজুর থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী এসব আড্ডায় মেতে থাকছেন ভোর পর্যন্ত। বগুড়া শহরের সাতমাথা, নবাববাড়ী রোড, কাটনার পাড়া, সেউজগাড়ীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে জুয়ার আড্ডা বসছে। এ ছাড়া জেলা শহরের আশপাশ এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা এমন আরও কয়েকটি জুয়ার আসর পরিচালনা করছেন। তবে জেলা পুলিশ বিভাগ বলছে, জেলায় কোনো ক্যাসিনো নেই। কোথাও জুয়ার আড্ডাও চলে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া শহরের কয়েকটি নামিদামি ক্লাবঘর রয়েছে। আগে এগুলো ঘর ছিল। এখন অনেক স্থানে ভবন নির্মিত হয়েছে। লাগানো হয়েছে একাধিক এসি। সেসব ক্লাবঘরে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা জুয়াড়ি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না। জেলা শহরের সম্মানিত লোকজনও সেসব ক্লাবে ঢুঁ মারেন। সারা রাত খোলা থাকে ক্লাবগুলো। অথচ ‘ক্রীড়া’র নামে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবঘরে কোনো খেলার সরঞ্জাম নেই। জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশও নেয় না। অংশ না নেওয়ায় কোনো পুরস্কার/জয়ও নেই। বগুড়া জেলা শহরের ক্লাবঘরগুলোই এখন মিনি ক্যাসিনো হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শহরের কাটনার পাড়ায় শহীদ তারেক সংঘ নামে একটি ক্লাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ক্লাবটিতে রাতভর জুয়ার আসর চলে। এ ছাড়া আলতাফুন্নেছা মাঠ-ঘেঁষেই ইউএফসি ক্লাব। একটা সময় বগুড়ার ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জ্বল পদচারণ ছিল তাদের। সেই ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। এখন রাতভর জুয়ার আসর বসে সেখানে।

শহরের সাতমাথায় রয়েছে টাউন ক্লাব। এই ক্লাবঘরে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। নবাববাড়ী রোডে একটি ক্লাবঘর রয়েছে। ‘রাইফেল ক্লাব’ নামের ঘরটি আগে এক তলা থাকলেও এখন সেখানে দামি ভবন গড়া হয়েছে। সেই ভবনের গায়ে বাইরে থেকে একাধিক এসি লাগানো দেখা যায়। এই ক্লাবে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের নামিদামি মানুষ যাচ্ছেন আর আসছেন। সবার প্রবেশাধিকার নেই। ক্লাবে যাতায়াতকারী একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন যে সেখানে জুয়ার আসর চলে।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার শহরের একজন পেশাদার জুয়াড়ি আবদুুল জলিল। সারা বছর রেলওয়ে জংশন শহর ও এর আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় বসান জুয়ার আসর। তার জুয়ার আসরে লোকজনের বেশি আগমন ঘটাতে সেখানে পোলাও-মাংসসহ বিভিন্ন প্রকার নেশার ব্যবস্থা করা হয়। শাজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী হাটের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে দুরুলিয়া গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের ভিতর স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রতি রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত জুয়ার (তাস) আসর চালান। এ উপজেলার আরও কয়েকটি স্থানে জুয়ার আসর বসানো হয়। এ ছাড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের কুমিরা পি ত পুকুরের একটি ক্লাবঘরে বুড়ইল ইউনিয়নের সিধইল গ্রামের বেলাল জুয়ার আসর পরিচালনা করেন। ধুনট উপজেলা সদরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হেদায়েতুল ইমলামের বিরুদ্ধে নিজের বাসায় জুয়ার বসানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বেলকুচি ও চৌকিবাড়ী গ্রামে খেলা হয় তাসের জুয়া। ভান্ডারবাড়ীর বাবুর নেতৃত্বে বানিয়াজান বাঁধ এলাকা ও মানিকপোটল গ্রামে জুয়া খেলা হয়।


আপনার মন্তব্য