শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪০

কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ সৌদিতে বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগ

মোহাম্মদ আল-আমীন, সৌদি আরব

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ সৌদিতে বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগ

সৌদি আরবে বিভিন্ন সেক্টরের মতো চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বাংলাদেশি চিকিৎসকরা সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবায় সন্তুষ্ট ছিল সৌদি সরকারও। কিন্তু কিছু বিপথগামী বাংলাদেশির কর্মকান্ডে  হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রীয় চিঠি চালাচালি  আর তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল ইসলামের প্রচেষ্টায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে এক হাজার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে সৌদি সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ওভারসিজ ইমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) সৌদিতে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর হঠাৎ করেই আড়াল হয়ে যায় চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়টি। এরপর কেটে যায় ৫টি বছর। সৌদি আরবে কর্মরত চিকিৎসকরা বলছেন রাষ্ট্রদূত পরিবর্তনের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ বলছেন শ্রমিক আনলে ব্যক্তিগত লাভ বেশি এজন্য হয়তো বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রফেশনাল লোক না এনে শ্রমিক আনার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সৌদি আরব শাখার সাবেক সভাপতি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সৌদি আরব শাখার সভাপতি ডাক্তার ইমারত হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, একটা সময় ছিল সৌদি আরবের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশি চিকিৎসক ছিলেন। গত ৫ বছরে এখানে কোনো চিকিৎসক না এলেও চাকরির সময়সীমা শেষ হওয়াসহ নানা কারণে প্রতিদিনই বাংলাদেশি চিকিৎসকরা সৌদি আরব ছাড়ছেন। এতে কমছে বাংলাদেশি চিকিৎসকের সংখ্যা। ডাক্তার ইমারত হোসেন বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের চাহিদা পূরণের জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসক নিচ্ছেন কিন্তু বাংলাদেশি চিকিৎসকদের যথেষ্ট সুনাম থাকার পরেও তাদের নেওয়া হচ্ছে না- এটির একটি কারণ হতে পারে কূটনৈতিক ব্যর্থতা। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারে না। তিনি বলেন, প্রফেশনাল (চিকিৎসক, প্রকৌশলী) বাংলাদেশি আনলে একদিকে যেমন বাড়বে রেমিট্যান্স প্রবাহ অন্যদিকে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে দেশের। বাংলাদেশের এফসিপিএস ডিগ্রি নিয়ে আপত্তি রয়েছে  সৌদি আরবের। অন্যান্য দেশের চিকিৎসকরা এফসিপিএস ডিগ্রি নিয়ে সৌদিতে এলে তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মর্যাদা পাচ্ছেন কিন্তু বাংলাদেশিদের কাজ করতে হচ্ছে জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি বাংলাদেশের এফসিপিএস কোর্স সৌদিতে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং কোর্সের সময়সীমা বাড়িয়ে বিষয়টি মীমাংসা করলেও সেটা পারেনি বাংলাদেশ।


আপনার মন্তব্য