শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০৯

যথাযোগ্য মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি গতকাল স্মরণ করেছে একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে হত্যা করা হয়েছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। সেই শহীদদের স্মরণ করতে সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর ও রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। একাত্তরে বাঙালির বিজয়ের ঊষালগ্নে জাতিকে মেধাশূন্য করতে বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এ-দেশীয় সহযোগীরা। দিনটি উপলক্ষে গতকাল সকাল ৭টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পরে দলীয় নেতাদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে শহীদ পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধারাও সকালে শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, এমপি, তিন বাহিনী প্রধান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সন্তানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে গেলে জনস্রোত নামে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে। পরে কেন্দ্রীয় ১৪ দল, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। অনেকে শিশু সন্তান, পরিবারের সদস্যদের নিয়েও আসেন বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সকাল ১০টায় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে কথা হয় কলেজশিক্ষক আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বর্বর পাকিস্তানি হানাদাররা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বসাধারণ আসছেন সেই সূর্যসন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। কিন্তু এই দিবসের মূল তাৎপর্য হচ্ছে, যারাই আমাদের স্বাধীনতার চেতনার বিরোধী, তাদের প্রত্যাখ্যান করা।’ আবাসন ব্যবসায়ী সোহেল আরমান বলেন, ‘আমরা বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে এখানে এসেছি। কিন্তু বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের প্রধান হোতা মৃত্যুদ প্রাপ্ত আসামি চৌধুরী মঈন উদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি। এটা আমাদের সরকারের ব্যর্থতা। খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের মাধ্যমেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সঠিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন হবে।’

এ ছাড়া যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল সারা দেশে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বলেন, ‘জাতিকে মেধাশূন্য করতে যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, সেসব কুলাঙ্গারের যারা পলাতক রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।’ সকালে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চত্বরে জমায়েত শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

খুলনা : গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা ও মহানগরী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে পর্যায়ক্রমে মহানগরী আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠন, বিএনপিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শোক র‌্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠান ও আলোর মিছিল বের করে।

 

বরিশাল : শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহীদ স্মৃতিফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এর পরপরই মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

সিলেট : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সকাল ৮টা থেকে সিলেট নগরের চৌহাট্টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর শাখা, জেলা প্রেস ক্লাব, বিএমএ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।

রংপুর : প্রথম প্রহরে কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিভাগীয়, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও সংগঠন শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

কুমিল্লা : কুমিল্লা নগর উদ্যানের বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ ডিসি সামছুল হক খান স্মৃতি ভাস্কর্য ও শহীদ পুলিশ সুপার মুন্সী কবির উদ্দিন আহমেদ স্মৃতি ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু ম্যুরালসহ বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান। বিকালে কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


আপনার মন্তব্য