শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৮

ডিজিটাল ফাঁদ চারপাশে

মির্জা মেহেদী তমাল

ডিজিটাল ফাঁদ চারপাশে

প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি থেকে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে ফেক আইডি খুলত জাহাঙ্গীর আলী। এরপর ফ্রেন্ডলিস্ট নিয়ে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলত। পরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীর ছবি সংগ্রহের পর তা এডিটিং করে নগ্ন ছবি তৈরি করে মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে ওই তরুণীর কাছে টাকা দাবি করত। না দিলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিত। এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ আগস্ট সিআইডির একটি দল তাকে মৌলভীবাজার থেকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর সে সিআইডিকে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত শতাধিক তরুণীকে অনলাইনে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়েছে সে। ৯ আগস্ট মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান থেকে আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সে ফেসবুকে পেজ খুলে কেনাকাটার চটকদার বিজ্ঞাপন দিত। কেউ তার পণ্য কিনতে চাইলে তার কাছ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে পুরনো কাপড় পাঠিয়ে প্রতারণা করত।

ছাব্বির হোসেন, সাগর খান, নাসির, সুমন সাহা ও কাজী মোর্তজা- এরা মোবাইল ফোন কোম্পানি থেকে লটারিতে গাড়ি, বাড়ি, অর্থ পুরস্কারের কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোটা অঙ্কের টাকা একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরের মাধ্যমে হাতিয়ে নিত। ২৬ মে তাদের ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি দল। তাদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন অনেকেই।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র হাসান মাহমুদ নাঈম। ধানমন্ডির রেক্স আইটি ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের কাজ শিখতে গত বছরের মে মাসে ভর্তি হয়। প্রতিষ্ঠানটি তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেয়। এরপর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নামে মাসে লাখ লাখ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাসানের কাছ থেকে ৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবদুস সালাম। হাসানের বাবার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ মে আবদুস সালামকে গ্রেফতার করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডি জানতে পারে, অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণা করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আবদুস সালাম।

নানা ধরনের ভয়ঙ্কর সব প্রতারণা হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারকের সংখ্যা। বদলাচ্ছে প্রতারণার ধরন। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনে ওতপেতে থাকা প্রতারকরা নানা কৌশলে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করছে মানুষকে। এমন সব প্রতারণার ঘটনা ঘটছে- অনেকে সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে চেপে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অবস্থাটা এমন- যেন প্রতি এক গজ দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে একেকজন প্রতারক। তারা বলছেন, এদের খপ্পর থেকে দূরে থাকার একমাত্র মাধ্যম সচেতনতা।

পুলিশ, র‌্যাব ও পিবিআইর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নানা কায়দায় প্রতারণার ফাঁদ পাতে প্রতারকরা। সাধারণত সহজ-সরল মানুষই তাদের লক্ষ্য। সুযোগ বুঝেই নানা ছলচাতুরী ও মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রতারণা করছে।


আপনার মন্তব্য

close