শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৬

মৃতদেহ থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপনে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৃতদেহ থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপনে উদ্যোগ

সচেতনতার অভাব এবং মানুষের অনাগ্রহের কারণে বাংলাদেশে এখনো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি। ফলে এখনো মৃত্যুর পর দান করা শরীর থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয় না। তবে সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন, কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন এ বছর পুনরায় এ বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। ‘মরণোত্তর অঙ্গ দান ও সংযোজন’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কিডনি ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন ও ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় দুই কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। অথচ মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগের চিকিৎসা পান। বাকি ৮০ ভাগ মানুষ চিকিৎসাসেবার বাইরেই রয়ে যাচ্ছেন। উন্নত বিশ্বে ৬০ ভাগের মতো মানুষ মরণোত্তর দান করা কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছেন। যদিও ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশে কিডনি সংযোজন ও ডায়ালাইসিস সেবা চালু আছে। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অপ্রতুল জীবিত কিডনি বা দাতার (ডোনার) অভাবে রোগীরা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারছেন না। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম দেশ সৌদি আরব ও ইরানে মরণোত্তর কিডনি দানের অসংখ্য উদাহরণ আছে। বাংলাদেশেও কয়েক বছর ধরে সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন মরণোত্তর কিডনি দানের উদ্যোগ গ্রহণ ও যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু মানুষের সচেতনতা ও অনাগ্রহের কারণে সেটি ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি। এ বছরও সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন, কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন পুনরায় এ বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যদিও অনেক দেরিতে এটি শুরু হচ্ছে। মরণোত্তর দেহদান নিয়ে মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সচেতনতা তৈরির কাজ করতে পারেন। এ জন্য সবার প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা দরকার।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএসএমএমইউর সহ-উপাচার্য রফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা এতদিন জীবিত মানুষ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছি। এখন মৃতদেহ থেকে নিয়ে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হারুন আর রশিদ, সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এম এ সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর