শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মে, ২০২০ ২৩:৫০

বাজারে ডলার সংকট বাড়ছে দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রায় বন্ধ রপ্তানি কার্যক্রম। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক ধারায় দেশের বাজারে মার্কিন ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা ডলার সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে ডলারের। বিভিন্ন ব্যাংকের ডলার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮৮ টাকা পর্যন্ত, যা গত এক মাস আগেও ছিল ৮৬ টাকায়। আমদানি দায় পরিশোধে বাড়তি মূল্যে কিনতে হচ্ছে ডলার। কিছু ব্যাংক সংকটের কারণে খুচরা বাজার থেকে ডলার কিনছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারের চাহিদা মেটাতে ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলোয়। এতেও সংকট কমছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রপ্তানি কম। করোনাভাইরাসের কারণে এখন রপ্তানি নেই বললেই চলে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহও কমে গেছে। কিন্তু পরিশোধ করতে হচ্ছে আমদানি ব্যয়। কারণ যেসব আমদানি এলসি আগে করা হয়েছিল সেগুলো এখন নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে। ফলে বাজারে ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক ব্যাংক আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসূত্রে জানা গেছে, এখন আন্তব্যাংক রেটে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা। তবে ব্যাংকগুলোয় ডলার লেনদেনের চিত্র ভিন্ন। বেশ কিছু ব্যাংক ডলার সংকটের কারণে পণ্য আমদানি দায় পরিশোধে ডলারের মূল্য নিচ্ছে ৮৭ টাকা পর্যন্ত। খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেশি। কোনো কোনো ব্যাংক খুচরা ডলার বিক্রি করছে ৮৮ থেকে ৮৮ দশমিক ৫০ পয়সা পর্যন্ত, যা এযাবৎকালে সর্বোচ্চ। ডলারের এ সংকটকালে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন ও সাধারণ ছুটির সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বিভিন্ন ব্যাংকের ডলার লেনদেনে দেখা গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা, অগ্রণী ব্যাংক ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা, রূপালী ব্যাংক ৮৫ টাকা, জনতা ব্যাংক ৮৭ টাকা ৭০ পয়সা, বেসিক ব্যাংক ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কোনোটাকেই ৮৭ টাকার নিচে ডলার বিক্রি করতে দেখা যায়নি। কয়েকটি ব্যাংকের বিক্রয়দর ছিল ৮৮ টাকা ২০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এ মুহূর্তে রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া মার্চ এপ্রিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণও ছিল কম। এর প্রভাবে বাজারে ডলার সংকট কিছুটা বাড়তে পারে। তবে চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিনই খুচরা বাজারে ডলার সরবরাহ করছে। সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক পদক্ষেপ নিচ্ছে। জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে কোনো সংকট নেই। তবে বাজারে নগদ ডলারের কিছুটা সংকট রয়েছে। যেসব ব্যাংকে রপ্তানি এলসির পরিমাণ কম বা রেমিট্যান্সও কম আসে তারাই বেশি সমস্যায় রয়েছে। এটা সাময়িক সমস্যা। এখন রপ্তানি কম এটা ঠিক তবে আমদানিও কম। সাধারণ পণ্য এখন আমদানি হচ্ছে না। শুধু জরুরি পণ্যগুলোই আসছে। তাই সংকট খুব বেশিদিন থাকবে না।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর