শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০২০ ০০:০৭

কেনাকাটার ভিড় কমছেই না

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেনাকাটার ভিড় কমছেই না

দেশে প্রায় প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড হলেও ঈদের কেনাকাটায় ভিড় কমছে না। রাজধানীর অধিকাংশ বড় শপিংমল বন্ধ থাকলেও খোলা থাকা মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। সঙ্গে আনছেন শিশুদেরও। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিনই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই মুহূর্তে ঘরের বাইরে থাকাটা অনিরাপদ বলে সতর্ক করলেও, তা অনেকেই মানছেন না। বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় দেখে বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় নেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। কেনাকাটা করতে আসা অধিকাংশ মানুষ মুখে মাস্ক ব্যবহার করলেও রক্ষা করতে পারছেন না সামাজিক দূরত্ব।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য ক্রেতা লাইন ধরে মার্কেটে প্রবেশ করছে। মার্কেটে প্রবেশের আগে তাদের মেশিন দিয়ে জ্বর মেপে এবং জীবাণুমুক্ত মেশিনের সাহায্যে স্যানিটাইজার ছিটিয়ে তবে মার্কেটে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তবে কেউ কেউ মাস্ক ছাড়াই প্রবেশ করছেন।

নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, এলিফ্যান্ট রোড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাথ থেকে শুরু করে অভিজাত আড়ং ও ইয়োলো’র দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় রাস্তার পাশের ছোট দোকানগুলোতে। আশপাশের বড় বড় মার্কেট বন্ধ থাকায় এগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ ক্রেতা জানান, ঈদের কেনাকাটা নয়, করোনার কারণে বেশ কিছু দিন মার্কেট বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পোশাক কিনতে বের হয়েছেন। রাস্তা-ঘাটে গণপরিবহন না চললেও প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, পিকআপ ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা অবাধে চলাচল করছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট ও মার্কেটের সামনে সেনা সদস্যদের টহল গাড়ি থেকে  জনগণকে সতর্কতামূলক বার্তা দিয়ে মাইকিং করতেও দেখা গেছে। অনেকেই জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকলেও, এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ঈদের কেনাকাটার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার পাঞ্জাবি কিনতে আসা ওসমান গণি বলেন, প্রতি বছর আব্বাকে ঈদে পাঞ্জাবি কিনে দেই। এবার নিজের জন্য কিছু কিনব না। শুধু আব্বার জন্য একটা পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। তিনি বলেন, অনেক দিন দোকান বন্ধ থাকায় কিনতে পারিনি। পরে যদি আবার মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তাই এই সময়ে কিনতে এসেছি। এখানকার পাঞ্জাবির দোকান খাদি বিতানের বিক্রয়কর্মী আবু জিলানি বলেন, দোকানে কাস্টমার ঢোকার আগে আমরা সবার হাতে জিবাণুনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা করছি। অনেক কাস্টমার একসঙ্গে ঢুকলে বের হয়ে যেতে বলছি। কিন্তু এর পারেও অনেকে জোর করে ঢুকে পড়লে না করতে পারি না। গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে দোকানপাট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, হাটবাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমলগুলো ১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। প্রতিটি শপিংমলের প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনা করে সবার আগে শপিংমল না খোলার ঘোষণা দেয় বসুন্ধরা সিটি শপিংমল কর্তৃপক্ষ। সরকারের আদেশ জারির পর দিন গত ৫ মে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বসুন্ধরা শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর যমুনা ফিউচার পার্ক, পিংক সিটি, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমাসহ রাজধানী এবং সারা দেশে বড় বড় শপিংমল ও মার্কেট না খোলার ঘোষণা আসে ওইসব মার্কেটের মালিকপক্ষের কাছ থেকে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর