শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুন, ২০২০ ০০:১৬

পুরনো মডেলের মেশিন কেনায় মিলছে না কিট

করোনা টেস্ট ও রিপোর্ট নিয়ে ভোগান্তিতে মানুষ

জয়শ্রী ভাদুড়ী

পুরনো মডেলের মেশিন কেনায় মিলছে না কিট

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামেগঞ্জে। করোনা উপসর্গ নিয়ে টেস্ট করতে আসা মানুষের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। কিন্তু প্রায়ই দেশের বিভিন্ন ল্যাবে নষ্ট থাকছে করোনা টেস্টের আরটিপিসিআর মেশিন। অভিযোগ উঠেছে, ২০০৯ সালের মডেলের মেশিন গছিয়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া পুরনো মডেল হওয়ায় ১১ বছর পরে এসে এই মডেলের কিটও পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে করোনা সংক্রমণের পর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানই (আইইডিসিআর) নমুনা পরীক্ষার কাজ করে আসছিল। ওই সময় আইইডিসিআরের বাইরে আরও সাতটি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার ল্যাব ছিল। ল্যাব বাড়াতে আরটিপিসিআর মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নমুনা পরীক্ষার জন্য সর্বশেষ কেনা ২১টি আরটিপিসিআর মেশিন ২০০৯ সালের মডেলের। ওই মেশিনের কিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চাহিদা থাকার পরও এসব মেশিনের কিট সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষাও করা যাচ্ছে না। অভিযোগ পাওয়া গেছে, থার্মোফিশার ৭৫০০ মডেলের আরটিপিসিআর মেশিনগুলো ২০০৯ সালের পুরনো মডেলের। পরবর্তী সময়ে ওই কোম্পনির আরও কয়েকটি নতুন মডেলের মেশিন বাজারে এসেছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী চাহিদার সুযোগ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরনো মডেলের মেশিনই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে গছিয়ে দিয়েছে। তিন শিফটে উন্নতমানের মেশিনে ২৭০-২৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু এই পুরনো মডেলের মেশিনে এর অর্ধেক টেস্টও করা সম্ভব হচ্ছে না। মেশিনের ত্রুটির কথা তুলে ধরে রাজধানীর দুটি হাসপাতালের পরিচালক তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছিলেন। গত মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার বিষয় নিয়ে হাসপাতাল পরিচালকদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে কয়েকজন পরিচালক মেশিনের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের এক পরিচালক বলেন, এই মেশিন দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করতে সমস্যা হচ্ছে। ২০০৯ সালের পুরনো মডেলের এই মেশিন দিয়ে এক শিফট কাজ চালানোয় মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় শিফটে কাজ করতে গেলে মেশিনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সব রেজাল্ট নেগেটিভ কিংবা সব রেজাল্ট পজেটিভ চলে আসছে।’ ভাইরাস বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন মডেলের আরটিপিসিআর মেশিনে তিন শিফটে ২৭০টি মতো নমুনা টেস্ট করা যায়। পুরনো মডেল হলে কিছু সমস্যা তো তৈরি হবেই।’ বিভিন্ন হাসপাতালে মাঝেমাঝেই ঘটছে মেশিন নষ্ট হওয়ার ঘটনা। পুরনো মডেলের আরটিপিসিআর মেশিনে কিট পাওয়া নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে ল্যাবে জমছে নমুনার স্তূপ। নমুনা সংগ্রহের পাঁচ দিন পরে শুরু হচ্ছে অনেক জায়গায় নমুনা পরীক্ষা। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ বলেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে চার জেলার নমুনা টেস্ট করা হয়। রংপুর সিটি এলাকা থেকে প্রতিদিন ৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পুরাতন রোগী থাকেন ২০ জন প্রায়, পুলিশ ৩০ জন এবং বাকি উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ জন নমুনা টেস্ট করার জন্য আগ্রহী থাকেন। কিন্তু আমরা সিরিয়াল নেওয়া রোগীদের নমুনা সংগ্রহে প্রায় পাঁচ দিন পিছিয়ে আছি। কিটের অভাবে নারায়ণগঞ্জের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে পাঁচ দিন পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা টেস্ট বন্ধ ছিল। ফেনীতে তিন দিন ধরে নমুনা সংগ্রহ বন্ধ ছিল।


আপনার মন্তব্য