শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০৮

প্রকৃতি

সারা বনে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বাঘ

আজ প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

মোস্তফা কাজল

সারা বনে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বাঘ

বদলে যাচ্ছে ঐতিহ্যের নান্দনিক সুন্দরবন। এবার সুন্দরবনের সীমানায় খালি চোখে দেখা মিলবে বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। অতি সম্প্রতি সুন্দরবনের বাঘ অধ্যুষিত এলাকা   কটকা, হিরন পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনী, কচিখালীসহ বিভিন্ন স্থানে বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। তবে বনের সব অংশে বাঘের সমান বিচরণ না থাকায় তাদের ছড়িয়ে দিতে চায় বন বিভাগ। এমন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে পুরো বনে বাঘের আনাগোনা বেড়ে যাবে। এ ছাড়া ড্রোন উড়িয়ে সুন্দরবন মনিটরিংয়ের প্রস্তাবনা রয়েছে তাদের। বৈশ্বিক মহামারী করোনার সংক্রমণের কারণে এ বছর বনে দর্শনার্থী ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পেরেছে বাঘ। দেশে বাঘের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবনে চোরা শিকারি চক্র এবং জলদস্যু-বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে কয়েক বছর আগেও অনেকটা হুমকির মুখে ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বাঘকে নিরাপত্তা দিতে বন বিভাগ নানা পরিকল্পনা নিয়ে ‘বাঘ সংরক্ষণ’ নামে প্রকল্প তৈরি করেছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঘ রক্ষায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। অবৈধ শিকার রোধ করতে হবে। বন বিভাগের তথ্য মতে, বাঘ আছে এমন দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। জানতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় ‘বাঘ সংরক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্প তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটি আজ বন অধিদফতর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।  প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮  কোটি টাকা। প্রকল্পটি সরকারের অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের মধ্যে বড় বড় নদীর কারণে বাঘ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য ওই প্রকল্পে সুন্দরবনের মধ্যে এক স্থান থেকে বাঘ সরিয়ে অন্য স্থানে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ জন্য বাঘ স্থানান্তর হলে প্রজননের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি প্রতি দুই বছর পর পর বাঘ জরিপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাঘের খাবার হরিণ এবং বন্য শূকর জরিপেরও প্রস্তাব রয়েছে। বন বিভাগ সূত্র আরও বলছে, গত ১০০ বছরে বিশ্বের নানা বনাঞ্চল থেকে বাঘের সংখ্যা এক লাখ থেকে কমে চার হাজারেরও নিচে দাঁড়িয়েছে। বাঘের আট উপপ্রজাতির মধ্যে এরই মধ্যে তিনটি বিশ্ব থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ মাত্র ১৩টি দেশে বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। সারা বিশ্বে বন উজাড়, শিকারি ও পাচারকারীদের কারণে বাঘ মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ অবস্থায় সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণের খবর আশার আলো জাগিয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, বার্মা, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ভুটান, নেপাল, চীন ও রাশিয়ায় বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে ভিয়েতনাম ও লাওসে বাঘ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনে টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান নামে ১০ বছর মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বন বিভাগ জানায়, ২০১৩-২০১৫ সালে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রথম জরিপ করে বাঘ পাওয়া যায় ১০৬টি। দ্বিতীয়বার ২০১৭-২০১৮ মেয়াদে একই পদ্ধতিতে জরিপ করে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের ১১৪টি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর