শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:২৮

আলুর সংকট আরও বেড়েছে

কারওয়ান বাজারে বিক্রি বন্ধ আড়তদারদের, ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি বন্ধের সুপারিশ, খুচরা মূল্য ৩৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আলুর সংকট আরও বেড়েছে

গত তিন দিন ধরে হিমাগার থেকে আলু সরবরাহ বন্ধ রাখায় বাজারে সবজিটির সংকট আরও বেড়েছে। আলু না আসায় ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারণ  দেখিয়ে সোমবার সকাল থেকে কারওয়ান বাজারের আড়তদাররা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে হিমাগারে আলুর মজুদ কম রয়েছে এমন তথ্য দিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সবজিটি রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। এদিকে ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের চাপের মুখে গতকাল কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে আলুর নতুন দাম পুনর্নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতিকেজি আলুর খুচরামূল্য ৩৫ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৩০ টাকা এবং হিমাগার পর্যায়ে ২৭ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত এক সভায় আলুর নতুন দাম পুনর্নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর আগে একই দফতর থেকে গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সবজিটির হিমাগার, পাইকারি ও খুচরামূল্য যথাক্রমে ২২, ২৫ ও ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কেউ তা মানেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল- এই অভিযোগে হিমাগার থেকে গত কয়েকদিন ধরে আলু বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। ব্যবসায়ীরাও ৫০ টাকার নিচে সবজিটি বিক্রি করেনি। অনেক ব্যবসায়ী কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের না করায় ফাঁকা হয়ে যায় রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারি আড়ত। গত তিন দিন ধরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু আসা বন্ধ রয়েছে। আলু না আসায় ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারণ দেখিয়ে  সোমবার সকাল থেকে বিক্রি বন্ধ রাখেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের বক্তব্য, সরকার নির্ধারিত দামে কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প কিছু  বিক্রেতার কাছে আলু আছে। বেশি দরে  কেনা থাকায় লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তারা। সব ধরনের সবজির পাশাপাশি আলুর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ও বাজারে আলু না থাকায় বিপাকে পড়ে নিম্নআয়ের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে গতকাল আলুর মূল্য পুনর্নির্ধারণে ফের  বৈঠকে বসে কৃষি বিপণন অধিদফতর। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (বাজার সংযোগ-০১) মজিবর রহমান বলেন, সভায় হিমাগার মালিক, পাইকারি ব্যবসায়ী, আড়তদার ছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মতি নিয়েই নতুন দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আর আপত্তি করার সুযোগ নেই। পুনর্নির্ধারিত মূল্যে কোল্ড স্টোরেজ, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আলু বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রপ্তানি বন্ধে বাণিজ্যে চিঠি : হিমাগার পর্যায়ে আলুর সংকট থাকায় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সবজিটি রপ্তানি বন্ধে সরকারের নির্দেশনা চেয়েছে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, দেশের ৩৯৩টি হিমাগারে এখনো ২২ থেকে ২৩ লাখ মেট্রিক টন আলু মজুদ আছে। এর মধ্যে বীজ আলু আছে ১০ লাখ টন। আগামী ডিসেম্বরে নতুন আলু বাজারে আসার কথা। কিন্তু বন্যার কারণে সেটি বিলম্বিত হতে পারে। ফলে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন আলু ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশ থেকে যে পরিমাণ আলু রপ্তানি হয় তার পরিমাণ খুবই কম। এ মৌসুমে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছে, যা বাজারে মূল্য প্রভাবিত করার মতো উল্লেখযোগ্য নয়। তিনি বলেন, কৃষকদের আলু উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সবজিটি রপ্তানিতে সরকার ২০ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। ফলে রপ্তানি বন্ধের আগে কৃষকের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এদিকে, আজ থেকে ২৫ টাকা দরে টিসিবি আলু বিক্রি শুরু করবে। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাক সেলের মাধ্যমে জনপ্রতি ২ কেজি করে আলু বিক্রি হবে। একই সাথে পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি, মশুর ডাল নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর