শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩০

কৃষিপণ্যে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে । প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থান বেড়েছে । রপ্তানি বাড়াতে ১৫ বছর মেয়াদি নীতিসহায়তা প্রদানের পরামর্শ । ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদ ও উদ্যোক্তাদের ঋণ না পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ

রুহুল আমিন রাসেল

কৃষিপণ্যে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি
Google News

কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। করোনাকালে আশাবাদের এই তথ্য দিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি বলেছে, সরকারের মূল টার্গেট কৃষি প্রক্রিয়াজত পণ্য রপ্তানির ওপর। বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থান দুটোই বেড়েছে। এখন পণ্যের মান নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে সরকারকে ১০ থেকে ১৫ বছরের নীতি সহায়তা দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মহামারী করোনাকালে কৃষিপণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে রপ্তানিতে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানির ওপর। এক্ষেত্রে পণ্যমান নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বা কোনো  রোড ম্যাপ ইপিবির নেই। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করছে, তাদের নিজস্ব টার্গেট রয়েছে বলে মনে করেন এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ইপিবির তথ্য বলছে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০২ কোটি ৮১ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এর অধিকাংশই প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য। রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৯ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন- পিকেএসএফের চেয়ারম্যান খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও শিল্পায়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অতিমারীতে কৃষি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এই খাতে দীর্ঘমেয়াদে নজর দিতে হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অর্থায়ন লাগবে। এখন আমাদের মূল দৃষ্টি হওয়া উচিত গ্রামের কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই খাতে। বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ- সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কৃষিপণ্য ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হওয়া আশার দিক। দেশের প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থান দুটোই বেড়েছে। উন্নত বিশ্বের বড় বাজারগুলোতে পণ্যের মান নিশ্চিত করা গেলে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণের ১০ থেকে ১৫টি খাত চিহ্নিত করা দরকার। এই লক্ষ্যে সরকারকে ১০ থেকে ১৫ বছরের নীতি সহায়তা দিতে হবে। বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশন- বাপা’র শিল্প পরিদর্শন কমিটির চেয়ারম্যান ইশাকুল হোসেন সুইট বলেন, কৃষি আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত যান্ত্রিকীকরণের সরকারি সহায়তা প্রত্যাশা অনুযায়ী কম। এর সঙ্গে ব্যাংক ঋণের উচ্চসুদ ও উদ্যোক্তাদের ঋণ না পাওয়াটাও বড় চ্যালেঞ্জ। বাপার তথ্য বলছে, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছে ২০টি। আর রপ্তানি করছে ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে বর্তমানে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ দশে রয়েছে। সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। বছরে উৎপাদন হয় ১ কোটি ৬০ লাখ টন। যদিও মান নিয়ে কড়াকড়ির কারণে ২০১৭ সালের মার্চে ইইউতে সবজি রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৮ সালের জুলাইয়ে সে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়েছে। আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ষষ্ঠ। ৫০ বছরে আলু উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ গুণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, গত অর্থবছরে আলু উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ টন। সরকারের পরামর্শে এবার কৃষকরা প্রচুর ব্রোকলি উৎপাদন করেও দাম পাননি। দাম না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে তা গরুকে খাওয়ানো হয়েছে। ফল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বছরে ফল চাষের জমি বাড়ছে ১০-১১ শতাংশ হারে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় ও আমে সপ্তম স্থানে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ফলের রপ্তানি বাড়াতে গত জুনে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। রপ্তানির জন্য উৎপাদিত শস্যের গুণগত মানের অভাব, নিরাপদ শস্য উৎপাদনের অভাব, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, চুক্তিভিত্তিক কৃষক না থাকা, অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাবরেটরি না থাকা, তদারকি ও মান সনদের দুষ্প্রাপ্যতা, রপ্তানির জন্য বিশেষ অঞ্চল না থাকাসহ ২০ ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছে তারা। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক প্যাকিং হাউস স্থাপনে পূর্বাচলে ২ একর জমি কৃষি মন্ত্রণালয়কে দিয়েছেন। সেখানে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশ্বমানের সর্বাধুনিক প্যাকিং হাউস এবং অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে।